সিলেট নগরী থেকে চুরি হওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার সূত্র ধরে পর্যায়ক্রমে আট ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এক মাস সময়ে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর মেজরটিলা বাজার এলাকা হতে যাত্রীবেশে পাঁচজন তজন নামে এক ব্যক্তির সিএনজি অটোরিকশাতে উঠেন। পরে তাকে ভাড়া করে দলদলি চা-বাগান এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে চালককে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে তারা অটোরিকশা, একটি বাটন ফোন, নগদ দুই হাজার টাকা, রুপার চেইন, গাড়ির মূল কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ৩০ ডিসেম্বর এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেন তজন মিয়া। তার সিএনজি অটোরিকশার নম্বর (রেজিঃ নম্বর-সিলেট-থ-১২-৯৩২০)। তিনি এয়ারপোর্ট থানার মেঘালয় চা বাগান এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

এদিকে মামলার পর চক্রটিকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। তবে ঘটনার পর আসামিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একের পর এক আসামিকে গ্রেফতার করে।

গত ২০ মার্চ প্রথমে গ্রেফতার করা হয় সাইফুলকে। পরে তার মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দীর্ঘ এক মাস দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে গ্রেফতার ব্যক্তিরা সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

এসএমপি পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীবেশে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিতো তারা। পরে সুযোগ বুঝে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যেতো। অবশেষে এ চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যাক্তিরা হলেন- নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী খারপাড় এলাকার বাবুল আহমেদের ছেলে মো: সাইফুল (২৮), কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো: নাঈম (২৪), মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার মুসলিমবাগ গ্রামের সামান আলীর ছেলে মো: শওকত (২৮), শাহপরাণ থানার বালুচর এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে আলী হোসেন ওরফে মাইল্লা (৩২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার শ্রীঘর গ্রামের সালেক উদ্দিনের ছেলে সাদিউর রহমান সোহেল (২৮), একই গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে মো: শুভ মিয়া (২২), হবিগঞ্জের লাখাইয়ের হরিনাকোনা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মোবাশ্বির আহমদ (২৪) ও বুল্লা গ্রামের টিটু মিয়ার ছেলে এখলাছ (২৫)।