মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সুবচনী বাজার এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কা থেকে নিজের ট্রলারকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে পড়ে আমির মাঝি (৫৫) নামে এক মাঝি নিখোঁজ হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তালতলা ডহুরী খালে এ ঘটনা ঘটে।
আমির মাঝি সুবচনী গ্রামের মরহুম তালেবর মাঝির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আমির মাঝি আদাবাড়ি এলাকা থেকে যাত্রী পার করে ফেরার পথে প্রচণ্ড স্রোতে ধলেশ্বরী নামের একটি বাল্কহেডের নিচে তার ট্রলার ঢুকে যায়। এ সময় ট্রলারটি রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে বাল্কহেডের নিচের অংশে মাথায় আঘাত পান আমির মাঝি। পরে তিনি পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। তবে তার ট্রলারে থাকা যাত্রী সাতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
আমির মাঝির ভাতিজা সুমন জানান, 'আমার চাচা ২৫ বছর ধরে মাঝির কাজ করছেন। তার দুই ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী। এছাড়া দু’টি মেয়ে রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর বাল্কহেডটি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে সেটি আটক করে নিয়ে আসে।’
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুবচনী বাজার এলাকার সালাম ডকওয়ার্ডের সামনে প্রায়ই চার-পাঁচটি বাল্কহেড নোঙর করে রাখা হয়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চাঁদাবাজদের সহায়তায় খালে বাল্কহেড চলাচল করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একই খালে পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তখন জেলা প্রশাসন খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
টঙ্গীবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তবে রাতের বেলা ডুবুরি না থাকায় অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ডুবুরি দল নিয়ে অভিযান চালানো হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাল্কহেডটি জব্দ করে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নৌ-পুলিশ বিস্তারিত তদন্তের পর ব্যবস্থা নেবে।