বরেণ্য সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১০ মে) ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গণমাধ্যমকে তার মেয়ে শারমিন আব্বাসী মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা জামান আব্বাসী। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শেষবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

মুস্তাফা জামান আব্বাসী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কিংবদন্তি পল্লীগীতি শিল্পী আব্বাস উদ্দীন আহমেদ। মা-বাবার সংগীত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে তিনি সংগীত, গবেষণা ও লেখালেখিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। ভারতের কোচবিহার জেলার বলরামপুর গ্রামে ১৯৩৬ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া মুস্তাফা জামান আব্বাসী শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন কলকাতায়। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স ও এমএ পাশ করেন। হার্ভার্ড গ্রুপ থেকে মার্কেটিং বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং দীর্ঘদিন শিল্পগোষ্ঠীর মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে বিশ্বের ২৫টি দেশে বাংলাদেশের লোকসংগীতকে তুলে ধরেন। ইউনেস্কোর আওতাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিটি অব মিউজিকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন একাধারে ১১ বছর।

দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর তিনি ফোক মিউজিক রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক ও সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন। তার সংগ্রহে ছিল কয়েক হাজার বাংলা লোকগান। সম্পাদনা করেছেন গুরুত্বপূর্ণ সংগীতগ্রন্থ ‘দুয়ারে আইসাছে পালকি’ ও ‘স্বাধীনতা দিনের গান’। ‘লোকসংগীতের ইতিহাস’, ‘ভাওয়াইয়ার জন্মভূমি’ (দুই খণ্ড), ‘ভাটির দ্যাশের ভাটিয়ালি’ সহ ২১টি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি।

জীবনকালে তিনি একুশে পদকসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। সংগীত, সাহিত্য ও গবেষণায় তার অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ।