বড় ধাক্কা খেলো পিএসজি। হঠাৎ যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। উড়তে থাকা দলটাকে মাটিতে নামিয়ে আনলো চেলসি। মধ্যরাতে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে তারা।
ফর্মের তুঙ্গে থাকা পিএসজিকে উড়িয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো চেলসি। রোববার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চেলসির জয় ৩-০ ব্যবধানে। ২০২১ সালের পর আবারো ক্লাব বিশ্বকাপ জিতলো দলটি।
দুর্দান্ত সময় কাটানো এই মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়সহ মোট ৪টি ট্রফি জিতে নেয় পিএসজি। ফাইনালেও তাদের এগিয়ে রাখা হচ্ছিল সবচেয়ে বেশি। দলটি ছিল দারুণ ছন্দেও।
বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবকে উড়িয়ে দিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে ফাইনালে পা রেখেছিল পিএসজি।
আসর জুড়ে প্রতিপক্ষের জালে ১৬ গোল দিয়ে ও মাত্র ১ গোল হজম করে উঠে এসেছিল ফাইনালে।
তবে আসল সময়ে এসে যেন নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে ভুলে গেলো পিএসজি। যদিও চেষ্টা করেছে। তবে গোলরক্ষক রবার্তো সানচেসকে এড়াতে পারেনি, ৬টি দারুণ সেভে হতাশ করেছেন তিনি।
এদিন চেলসি আক্রমণাত্মক শুরু করে পিএসজির বিপক্ষে। অষ্টম মিনিটে পালমারের বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। তবে ষোড়শ মিনিটে উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ফরাসিরাও।
ফাবিয়ান রুইসের চমৎকার পাস বক্সে ভালো পজিশনে পান দিজিরে দুয়ে, কিন্তু নিজে শট না নিয়ে আশরাফ হাকিমিকে পাস দেয়ার চেষ্টা করেন। সুযোগে বল ক্লিয়ার করেন মার্ক কুকুরেলা।
দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দুয়ের জোরাল নিচু শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান সানচেস। ম্যাচের প্রথম গোল আসে ২২ মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর থেকে গুসতোর পাস পেয়ে বল জালে পাঠান কোল পালমার।
আট মিনিট পর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পালমার নিজেই। নিজেদের অর্ধ থেকে ডিফেন্ডার লিভাই কলউইলের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর খুঁজে নেন জাল।
পিএসজিকে কোণঠাসা করে ৪৩তম মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। এই গোলেও জড়িয়ে আছে পালমারের নাম। তিনি পাস দেন বক্সে, গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে তা জালে পাঠান জোয়াও পেদ্রো।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরেকটি দারুণ সেভ করেন সানচেস। জোয়াও নেভেসের হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান তিনি। সুবাদে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে অবিশ্বাস্য সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন সানচেস। উসমান দেম্বেলের প্রচেষ্টা দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে এক হাতে ব্যর্থ করে দেন তিনি। ৬০ মিনিটে আবারো সানচেসের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় চেলসি।
৩০ গজ দূর থেকে ভিতিনিয়ার জোরাল শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। এরপর বেশকিছু আক্রমণ করে চেলসিও, তবে পিএসজি গোলরক্ষক ছিলেন বেশ সতর্ক। ফলে ব্যবধান বাড়েনি।
এর মাঝে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় পিএসজি। চেলসির ডিফেন্ডার কুকুরেলার চুল টেনে ধরায় লাল কার্ড দেখেন পিএসজির পর্তুগিজ তারকা জোয়াও নেভেস।
শেষ পর্যন্ত এদিন আর গোলমুখ খুলতে পারেনি পিএসজি। বিপরীতে ৩-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে চেলসি। কনফারেন্স লিগ শিরোপা জেতা চেলসির মৌসুমটা শেষ হলো আরো একটা শিরোপা জিতে।