দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই, তাও আবার শিরোপার মঞ্চে; কোপা দেল রের ফাইনালে। ফলে একটু বেশিই উত্তাপ ছড়ানোর কথা৷ ছড়ালোও। মাঠের বাইরের রেশ থাকলো মাঠেও। তবে ঘটনাবহুল লড়াইয়ে পেরে উঠলো না লস ব্লাঙ্কোজরা৷
সেভিয়ায় শনিবার রাতে কোপা দেল রের ফাইনালে মুখোমুখি হয় রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে যেখানে ৩-২ গোলে জয় বার্সেলোনার, যা তাদের রেকর্ড ৩২তম শিরোপা!
খেলা শুরুর আগে 'রেফারি' নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। এমনকি অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলনসহ ম্যাচের আগের সকল আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাতে সাড়া মেলেনি।
খেলা শুরুর আগে মাঠের বাইরেও দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। পুলিশের সাথে মারামারি হয় দুই দলের সমর্থকদের। মাঠের বাহিরের এই উত্তাপ ছিল মাঠেও। জমজমাট লড়াই হয় দুই দলের মাঝে।
একটি মাত্র গোল আসে প্রথমার্ধে। ২৮ মিনিটে গোল করেন পেদ্রি। প্রথমে মাঝমাঠ থেকে লম্বা পাসে বল দেন ইয়ামালকে। তারপর আবার তার থেকে বল নিয়ে জড়ান জালে। এগিয়ে যায় বার্সা।
৩৫তম মিনিটে জালে বল পাঠান জুড বেলিংহ্যাম; কিন্তু তিনিই অফসাইডে থাকায় মেলেনি সমতা। প্রথমার্ধে রিয়াল আর বলার মতো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে আক্রমণে ধার ছিল বার্সার।
প্রথমার্ধে ৬৩ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৯টি শট নেয় বার্সেলোনা, এর চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে রিয়ালের একমাত্র শটটিও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে রিয়াল।
এরপর ম্যাচের গতি বদলাতে মাঠে আসেন এমবাপ্পে। রিয়াল কোচের এই টোটকা কাজে দেয়। পাল্টা আক্রমণ শুরু করে লস ব্লাঙ্কোজরা। অবশেষে ৭০তম মিনিটে চমৎকার ফ্রি কিকে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে।
সমতায় ফেরা রিয়ালের এগিয়ে যেতে সময় লাগেনি। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে জাল খুঁজে নেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। তবে এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি, তোরেস গোল করে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত সময়ে আর গোল আসেনি। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে রিয়ালের ডি-বক্সে পড়ে যান রাফিনিয়া। বার্সেলোনার পেনাল্টির আবেদনে শুরুতে রেফারি সাড়াও দেন। পরে অবশ্য ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি।
যোগ করা সময়েও কাঙ্ক্ষিত গোল না আসায় দেয়া হয় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট। যেখানেও চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। গোল না আসায় দুই দলই যখন টাইব্রেকারের অপেক্ষায়, তখনই ঘটে যায় ঘটনা।
১১৬তম মিনিটে নিজেদের ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে ব্রাহিম দিয়াসকে বল বাড়ান লুকা মদ্রিচ। তবে দ্রুত গতিতে ছুটে এসে মধ্যখান দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন কুন্দে।
এই গোলেই নিশ্চিত হয় বার্সার শিরোপা। এরপর রিয়াল আর তেমন সুযোগ পায়নি। যদিও ১১৮ মিনিটে বার্সেলোনার ডি-বক্সে এমবাপ্পে পড়ে গেলে সুযোগ তৈরি হয়। তবে অফসাইড হওয়ায় পেনাল্টি পায়নি রিয়াল।
খানিকটা পর এমবাপ্পে ফ্রি কিক না পাওয়ায় বেঞ্চ থেকে রেফারির প্রতি তেড়ে যাচ্ছিলেন রিয়াল ডিফেন্ডার আন্তনিও রুডিগার। সতীর্থরা তাকে টেনে ধরে থামান। কিন্তু রিয়ালের বেঞ্চ থেকে কিছু একটা ছুঁড়ে মারা হয়।
এই ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন রুডিগার। খানিকটা পর লুকাস ভাসকেসকেও লাল কার্ড দেন রেফারি। ৯ জনের দলে পরিনত হয় রিয়াল মাদ্রিদ।
পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ, শিরোপা জয় বার্সেলোনার
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে যেখানে ৩-২ গোলে জয় বার্সেলোনার, যা তাদের রেকর্ড ৩২তম শিরোপা!