ঠিকানা বদলাচ্ছে কেভিন ডি ব্রুইনার। ম্যানসিটির সাথে চুক্তি শেষ হচ্ছে তার। এই মৌসুম শেষে আর আকাশি-নীল জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাকে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি নিজেই জানিয়েছেন বিচ্ছেদের এই খবর।
২০১৫ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেব ডি ব্রুইনা।যোগ দেয়ার পর থেকে সিটির হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সব শিরোপা। জিতেছেন ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি এফএ কাপ ও পাঁচটি লিগ কাপ।
তবে পথচলা শেষ হচ্ছে এবার। সম্পর্কে ধরেছে ভাঙন। আগামী জুন পর্যন্ত সিটির সাথে চুক্তি আছে ডি ব্রুইনার। সেই চুক্তি নবায়ন না হওয়ায়, চলতি মৌসুমের পর আর ক্লাবটিতে থাকা হচ্ছে না তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে মৌসুম শেষেই ইতিহাদ ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে কিংবদন্তি এই বেলজিয়াম মিডফিল্ডার লিখেন- ‘আমি কোনো ঘোরপ্যাঁচ না করে সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছি, ম্যানচেস্টার সিটিতে এই কয়েকটা মাসই আমার শেষ।’
আবেগাপ্লুত ব্রুইনা আরো লিখেন- ‘আমরা যারা পেশাদার ফুটবলার, তারা জানি, এই দিনটা একদিন না একদিন আসবেই। সেই দিনটা আজ এসে গেছে। আর আপনাদের অধিকার আছে, সেটা সবার আগে আমার মুখ থেকেই শোনার। ’
‘ফুটবলই আমাকে আপনাদের কাছে এনেছে, এই শহরে এনেছে। স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে, আমি কখনো কল্পনাও করিনি এই সময়টা আমার জীবনটাই পাল্টে দেবে। এই শহর, এই ক্লাব, এই মানুষগুলো—আমাকে সব কিছু দিয়েছে। তাই আমারও সবটুকু উজাড় করে না দিয়ে কোনো উপায় ছিল না।’
‘আমরা একসাথে সব কিছু জিতেছি। পছন্দ হোক আর না হোক, বিদায় বলার সময় এসে গেছে। সুরি, রোম, মেসন, মিশেল আর আমি—আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব, এই শহর আমাদের পরিবারের জন্য যা কিছু করেছে তার জন্য।’
‘ম্যানচেস্টার শুধু আমাদের সন্তানদের পাসপোর্টেই থাকবে না, থাকবে আমাদের হৃদয়ের গভীরে। এটাই আমাদের সব সময়ের “বাড়ি”। এই শহর, এই ক্লাব, সব কর্মী, সতীর্থ, বন্ধু ও পরিবারের প্রতি আমাদের সীমাহীন কৃতজ্ঞতা—১০ বছরের এই অসাধারণ যাত্রার জন্য।’
এরপর ব্রুইনা আরে লিখেন যে- ‘প্রতিটি গল্পেরই একটা শেষ থাকে। আমার জীবনের এই অধ্যায়টা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সেরা। আসুন, বাকি সময়টুকু আমরা একসাথে উপভোগ করি! অসংখ্য ভালোবাসা, কেডিবি।’
উল্লেখ্য, ম্যানসিটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ভাবা হয় ব্রুইনাকে। প্রিমিয়ার লিগেরও অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার মনে করা হয় তাকে। সব মিলিয়ে সিটির হয়ে ৪১৩ ম্যাচে ১০৬ গোল তার, করিয়েছেন ১৭৪টি।