দিয়াগো জটা আর তার ভাইয়ের মৃত্যু শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফুটবল বিশ্ব। এর মাঝেই এলো আরো একটা দুঃসংবাদ, ইসরাইলি বর্বতার শিকার হয়েছেন ফিলিস্তিনের ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লিলি।

বেঁচে থাকাই যেন বিষ্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনে। প্রতিটি মুহূর্তই যেন কাটছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। প্রতিটি নিঃশ্বাসেই মিশে আছে আতঙ্ক, এই বুঝি বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে দেহ।

নিরীহ-নিরপরাধ সাধারণ মানুষ তো বটেই, দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিভৎসতার শিকার ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও। যার সর্বশেষ সংযোজন ফুটবলার মুহান্নাদ আল-লিলি।

ইসারাইলি বর্বতার এমন নিষ্ঠুর শিকার কেবল মুহান্নাদ নয়, পিএফএর তথ্যমতে, ইসরাইলি হামলায় শহীদ ফিলিস্তিনি ফুটবলারের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে পৌঁছেছে। আর সব ধরনের ক্রীড়াবিদ মিলে সংখ্যাটা ৫৮৫!

শুক্রবার তার মৃত্যুর খরব নিশ্চিত করে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘গত সোমবার ড্রোন হামলায় মুহান্নাদের মাথায় মারাত্মকভাবে রক্তক্ষরণ হয় ও বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।’

ফুটবলার মুহান্নাদ ফিলিস্তিনি ক্লাব খাদামাত আল-মাঘাজির হয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি ফিলিস্তিন প্রিমিয়ার লিগে দলটির নেতৃত্বও দেন।

এরপর মাঘাজি ছেড়ে শাবাব জাবালিয়াতে যোগ দেন মুহান্নাদ। এ ক্লাবের হয়ে তিনি দু’টি মৌসুম খেলেন এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে দলকে রানার্সআপ করতে বড় ভূমিকা রাখেন।

শাবাবে সাফল্যের পর মুহান্নাদ যোগ দেন গাজা স্পোর্টস ক্লাবে। এরপর নিজের পুরনো ক্লাব খাদামাত আল-মাজাজিতে ফিরে আসেন।

এদিকটায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্রীড়াবিদদের মৃত্যুর পাশাপাশি ২৬৪টি ক্রীড়া স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে ফিফার অর্থায়নে নির্মিত ১২টি স্টেডিয়ামের সবগুলোই।

উল্লেখ্য, এত এত ফুটবলার ও ক্রীড়াবিদদের মৃত্যুতে টনক নড়েনি ফিফার। একের পর এক খেলার মাঠ ধ্বংস হয়ে যাওয়াতেও মাথা ব্যথা নেই তাদের। নিচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।

অথচ যুদ্ধের সংঘাতে জড়ানোয় বিভিন্ন দেশকে নানা সময় নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা করায় রাশিয়া ও নব্বই দশকে বলকান যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়াকে নিষিদ্ধ করে তারা।