ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ব্যস্ত শিডিউল। ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচ দিয়ে এ বছরের মিশন শুরু জামাল ভূঁইয়াদের। এরপর এই আসরের আরো কয়েক ম্যাচ। রয়েছে সাফ ফুটবল। সাথে ফিফা উইন্ডোতে খেলাও।
জাতীয় দলের এই ব্যস্ততা ক্যাম্প আয়োজন, বিদেশে খেলতে যাওয়ার বিমান ভাড়া জোগাড়সহ নানান খরচ আছে। বিশাল এই অর্থ জোগাড়ে হিমশিম খেতে হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা বকেয়া রেখেই চলে বাফুফে। তবে এখন জাতীয় দলের জন্য কিছুটা হলেও চিন্তা মুক্তির মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের জন্য এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
গতকাল এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বাফুফে ও ইউসিবির মধ্যে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল, ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহির ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মাহমুমুদুর রশীদ। ছিলেন বাফুফেরসহ সভাপতি ফাহাদ করিম, ইউসিবির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
এই পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইউসিবিএল কতো টাকা বাফুফেকে দিচ্ছে তা উল্লেখ করেননি বাফুফে সভাপতি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইউসিবি ব্যাংক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ডিজিটাল ফ্ল্যাট নির্মাণ, মার্কেটিং এবং ব্র্যান্ডিংয়ে বাফুফেকে সহায়তা করবে। তাবিথ আওয়াল মনে করিয়ে দেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ১০০ দিনের মধ্যে বাফুফের উপর ফিফার যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ছিল তুলিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। তা ছয় বছর পর। তিনি আশ্বস্ত করেন, মআমরা আশা করব, ব্যাংক আমাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। যদি আমরা না পারি তাহলে বাফুফেরই উচিত হবে সরে যাওয়া।
ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির বলেন, বাংলাদেশের যে আবহাওয়া, যে পরিবেশ তাতে ফুটবল অন্য যেকোনো ইভেন্টের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও আমরা পিছিয়ে আছি তবে যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই তাহলে ফুটবলেও ভালো করার দারুণ সম্ভাবনা আছে। আরেকটি বিষয় এখন বাফুফেতে নতুন যে বোর্ড আছে তাদের উপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস। তারা ফুটবলে একটা পরিবর্তন আনতে পারবে। তাই তাদের সাথে আমরা লংটার্ম চুক্তিতে যাচ্ছি। আর জাতীয় দল যতো বেশি জিতব ততো আমাদের ব্যাংক গর্বিত হবে। তখন আরো স্পন্সররা আসবে। সে সময় সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে পারব।
বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ দলের হয়ে আজ যে খেলতে আসা সেখানেই অবদান ইউসিবিএলের। তার আশা, ভবিষ্যতে আরো এমন প্রবাসী ফুটবলার আনতেও ভূমিকা রাখবে এই ব্যাংক। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফের উল্লেখ করা হয় বাফুফে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল লিগেরও স্পন্সর ইউসিবিএল।