হারটাকে অবিশ্বাস্য বলা যায় না, আবার বলতেও হয়। যেখানে হারের চেয়েও বড় বিস্ময়কর হারের ধরন। ক্লাব বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটাকে পাত্তাই দেয়নি পিএসজি। বুধবার রাতে জিতেছে ৪-০ গোলে।
সময়টা বেশ ভালো কাটছে পিএসজির। হয়ে উঠছে অপ্রতিরোধ্য। তাদের টেনে ধরতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদও। উল্টো ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে তাদের নাকানিচুবানি দিয়ে ছেড়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে গতরাতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি। ম্যাচটায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে- এমন প্রত্যাশাই ছিল সবার।
তবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রিয়ালকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন দেম্বেলে-ফ্যাবিয়ান রুইজরা। মাত্র ২৫ মিনিটেই রিয়ালের জালে ৩ গোল দেয় তারা।
এইদিন ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই তার গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। শুরুটা করেছেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। উসমান দেম্বেলের পাস থেকে গোল করেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
তার তিন মিনিট পরই দেম্বেলে পিএসজিকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন উসমান দেম্বেলে নিজেই। রুডিগারের ভুলে বল পেয়ে যান দেম্বেলে। তা থেকে সহজ গোল আদায় করে নেন ফরাসি এই উইঙ্গার।
এখানেই শেষ নয়, ২৪ মিনিটে দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। আশরাফ হাকিমির পাস থেকে গোল করেন তিনি। তিন গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় পিএসজি।
৩৯তম মিনিটে ব্যবধান আরো প্রায় বাড়িয়েই ফেলছিল তারা। একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া। তবে জয় অনেকটা নিশ্চিত করেই বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৪৭তম মিনিটে রিয়ালের জালে বল পাঠান দিজিরে দুয়ে। কিন্তু অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল। অন্যদিকে ফাইনালের কথা ভেবে কিছুক্ষণ পর দেম্বেলে, কাভারাৎস্খেলিয়া ও বেলিংহামকে তুলে নেন পিএসজি কোচ।
একপেশে ম্যাচে পরের গোল আসে ৮৮তম মিনিটে। ব্যবধান আরো বাড়ান সার্জিও রামোস। গোল উদযাপনে তিনি স্মরণ করেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাতীয় দলের সতীর্থ দিয়োগো জটাকে।
পিএসজি ছাড়ার পর প্রথমবার নিজের সাবেক দলের মুখোমুখি হয়ে তেমন কিছুই করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর নিজের ছায়া হয়েছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
এদিকে এই হারে হতাশা আরো বাড়লো। মৌসুমে ট্রফি শূন্যই থাকল ই্উরোপের সফলতম দলটি।