ফুটবলে চলছে নবজাগরণের জোয়ার। হামজা-সামিত সোমরা বদলে দিয়েছেন দেশের ফুটবল। এবার বাফুফের চোখ ফুটসালে, ফুটবলের এই সংস্করণেও করতে চায় বাজিমাত।

হাতে এক মাসও সময় নেই। আগামী মাসের ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় এএফসি ফুটসাল এশিয়ান কাপ ২০২৬- এর বাছাইপর্ব খেলতে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটসাল দল।

তবে অবাক করা বিষয় হলো, দেশে এখনো পর্যন্ত এ দলটির কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রায় দিন দশেক হলো এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। চলছে দেশব্যাপী বাছাই প্রক্রিয়া।

তারই ধারাবাহিকতায় ফুটসালের জন্য অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। তিন মাসের জন্য নিয়োগ পাওয়া অভিজ্ঞ ইরানি ফুটসাল প্রশিক্ষক সাঈদ খোদারাহমিকে নিয়ে এসেছে তারা।

সবকিছু জেনেশুনেই বাংলাদেশে পা রেখেছেন সাঈদ। দায়িত্বটা যে অনেক বড়, তা জানেন তিনিও। যা স্পষ্ট তার কথাতেও।

গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর তিনি বলেন, ‘গতকাল আমি প্রথমবারের মতো আপনাদের দেশে আসি। আমার দায়িত্বটা খুবই কঠিন। আমি মনে করি আজ আপনাদের দেশে ফুটসাল জন্ম নিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আপনাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে আমি পাঁচ বছর করেছি। সেখানেও একই কথা বলেছি। দয়া করে সবাই সমর্থন করবেন।’

সাঈদ খোদারাহমি বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই। বাংলাদেশে আপনাদের ফুটসাল স্টেডিয়াম কয়টি। ফুটসালে কতজন কোচ, কতজন রেফারি ও কতজন খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশ ফুটসালের ভবিষ্যৎ খুব শক্তিশালী।’

‘আমি অনুরোধ করছি সবাই হাতে হাত ধরে কাজ করবেন। কারণ ফুটসাল এখন শিশু। এই শিশুকে বড় করে তোলার দায়িত্ব আমি নিতে চাই। আর শিশুদের সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘ইরানে ফুটসাল শুরু হয়েছে ৩৫ বছর আগে। এখানে অনেক স্টেডিয়াম আছে। আমার শহর ইসফানে এক হাজারের বেশি স্টেডিয়াম আছে। প্রতিটি গ্রামে একটি করে ফুটসাল স্টেডিয়াম আছে। ছেলে-মেয়ে সবাই সেখানে ফুটসাল খেলে।’

‘মিয়ানমারে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, সেখানেও একই অবস্থা ছিল। এখন তারা অনেক উন্নতি করেছে। আমি চাই একদিন বাংলাদেশের মানুষও আমাকে মনে রাখুক।’

এদিকে বাফুফের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সভাপতি তাবিথ আওয়াল বলেন, ‘আপনারা সাঈদকে সমর্থন দিন। যুবকদের সমর্থন দিন। নারীদের সমর্থন দিন। আমার পরিকল্পনায় নারী ফুটসালও আছে। আপনার দেশের অর্ধেক মানুষ নারী। তারা কি ফুটসাল পছন্দ করেন না?’

‘আমি বিশ্বাস করি, করেন। ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত কারণে বাংলাদেশ ফুটসালের জন্য খুবই ভালো। কারণ কখনো বৃষ্টি, কখনো গরম তবুও ফুটসাল খেলা যায়। বৃষ্টিতে সমস্যা নেই, রোদে সমস্যা নেই। সবসময় ফুটসাল খেলা যায়।’

জানা যায়, ফুটসাল নিয়ে বিস্তর জানাশোনা সাঈদের। হাইপ্রোফাইল কোচ তিনি। এক যুগের বেশি সময় তিনি এএফসি’র ফুটসাল ইন্সট্রাকটর। মিয়ানমার জাতীয় নারী ও পুরুষ ফুটসাল দলের কোচ ছিলেন পাঁচ বছর।

বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান সাঈদকে বেছে নেয়ার কারণ সম্পর্কে কথা বলেন তার অভিজ্ঞতা নিয়ে। বলেন, ‘মিয়ানমারের র‍্যাঙ্কিং ছিল ১০৩। সেখানে তার কোচিংয়ে ৮০ তে এসেছিল।’

‘ফুটসালে ২৩ র‍্যাঙ্কিং অনেক। ফুটসালে ১৩৯ পর্যন্ত র‍্যাঙ্কিং রয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই র‌্যঙ্কিং সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারব।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল ফুটসালের র‍্যাঙ্কিংয়ের মাঝে নেই।

ফিফা-এএফসি গাইডলাইনে বাফুফে ফুটসাল কমিটি রাখলেও সেভাবে কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ২০০৮ সালে একটি ঘরোয়া লিগ ছাড়া কিছু করেনি। তবে এখন দিন বদলাতে চায় বাফুফে।

ইমরানুর আরো বলেন, ‘আপনাদের শুধু ঢাকার ফুটবলের কথা ভাবলে চলবে না। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাতেও হয়তো তারকা ফুটসাল খেলোয়াড় লুকিয়ে আছেন। তাদের খুঁজে পেতে হলে শক্তিশালী লিগ গড়ে তুলতে হবে, সব জেলায় তৈরি করতে হবে স্টেডিয়াম।’

‘হয়তো আমি কোনো সময় ভুল করব, তাহলে জানাবেন। আমি খুশি হব। আমাকে ভালো বলার দরকার নেই, ফুটসালের উন্নতির জন্য সমর্থন করবেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিকল্পনা শুরু হচ্ছে।’

জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের চূড়ান্ত স্কোয়াড হবে ১৪ জনের। দুই জন গোলরক্ষক ও ১২ জন আউট ফিল্ড ফুটবলার। এর আগে, আগস্টের ১৯ তারিখের মধ্যে বাফুফেকে ২৪ জন ফুটবলারকে এএফসিতে নিবন্ধন করতে হবে।