সিলেট টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকদের পাত্তাই দেয়নি সফরকারীরা। প্রথমে বল হাতে চেপে ধরার পর ব্যাট হাতেও দাপট দেখিয়েছে ক্রেইগ আরভিনের দল।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে রোববার সিলেটে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে আগে ব্যাট করে মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। জবাবে ১৪.১ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে।

এই ম্যাচ দিয়ে চলতি বছর সাদা পোশাকে প্রথমবার খেলতে নামে নাজমুল হোসেন শান্তরা। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলছে ৪ বছর পর। আর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলছে ৫ বছর পরে।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ। প্রথম দিনটা হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পর বল হাতেও কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি স্বাগতিকেরা। পারেনি বল হাতে কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে।

যেই নাহিদ রানাকে নিয়ে এতো কথা, তিনিও পারেননি মান রাখতে। ওভার প্রতি ৫ রানের বেশি দিয়েছেন তিনি। ব্রায়ান ব্যানেট ৩৭ বলে ৪০ ও বেন কারান ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

অল্প রানের পুঁজিতে যেভাবে চেপে ধরার প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়েকে, তার কিছুই হয়নি। তবে যা করার আগামীকাল সকালেই করতে হবে। নতুন দিনের শুরুতেই দ্রুত কিছু উইকেট নিতে হবে। অন্যথায় কঠিন হয়ে যাবে লড়াই।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে প্রথম ৮ ওভার ভালোই ছিল, ৩১ রান তুলে বিনা উইকেটে। তবে এরপরই আসে আঘাত। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে জোড়া উইকেট হারিয়ে বসে দল। চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

ভিক্টর নিয়াউচির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান, ১২ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। প্রথম উইকেটের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই ফের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আবার আঘাত আনেন ভিক্টর নিয়াউচি।

১১তম ওভারে এসে ফেরান মাহমুদুল হাসান জয়কে, ১৪ রানে আউট হন জয়। ১২ ওভার শেষে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৩২। তবে দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা অনেকটাই সামলে উঠে তৃতীয় উইকেটে।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক মিলে ধরেন হাল। তাতে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে আর কোনো বিপদ হয়নি টাইগারদের। তবে বিরতির পর বড় হয়নি জুটি, ৬৬ রানে থামে যুগলবন্দী।

ব্লেজিং মুজারাবানির শিকার হয়ে থামেন নাজমুল শান্ত। ৬৯ বলে ৪০ রান করে আউট হন তিনি। এরপর মাঠে এসে বেশিক্ষণ টেকেননি মুশফিকুর রহিম। উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন মাত্র ৪ রান করে।

তার বিদায়ের পর সাজঘরের পথ ধরেন সকাল থেকে একপ্রান্ত আগলে রাখা মমিনুল হকও। ক্যারিয়ারের ২২তম ফিফটি করেই থামেন তিনি, করেন ১০৫ বলে ৫৬ রান। সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই ফেরেন মেহেদী মিরাজ (১)।

আট নম্বরে নেমে তাইজুল ইসলামও ছিলেন ব্যর্থ। ১৯ বলে ৩ রান আসে তার ব্যাটে। দেড় শ' পেরোনোর আগেই হয় সপ্তম উইকেটের পতন। বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে জাকের আলিই ছিলেন কেবল তখন মাঠে।

হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪১ রান যোগ করেন জাকের। তবে দুই শ' পেরোনোর জন্য তাও যথেষ্ট হয়নি। হাসান ১৯ ও জাকের আলি আউট হন ৫৯ বলে ২৮ রান করে। নাহিদ রানা ফিরতেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

এদিকে বল হাতে মুজারাবানি ৩, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ওয়েসলি মাধেভেরে ও ভিক্টর নিয়াউচি নেন ২টি করে উইকেট।