বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ভারত। আগের দিনের সাথে যোগ হয়নি বড় রান। রান যা করার তা করেন রিশাভ পান্ত, সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এরপর বল হাতে দাপট দেখান জাসপ্রিত বুমরাহ।
৩ উইকেটে ৩৫৯ রাম নিয়ে শনিবার হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। তবে এদিন মাত্র ১১২ রান যোগ করতেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। সব মিলিয়ে ৪৭১ রান করে ভারত।
জবাব দিতে নেমে খুব একটা স্বস্তি নেই ইংল্যান্ড। বুমরাহ ম্যাজিকে ভাঙন ধরেছে ইনিংসে। রান ২০০ পেরোতেই হারিয়েছে ৩ উইকেট। ২০৯ রান তুলেছে তার। লিড ভাঙতে তাদের চাই আরো ২৬২রান।
শুরুটা খারাপ করেনি ভারত আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান শুভমান গিল ও থিতু হয়ে যাওয়া রিশাভ পান্ত অনায়াসেই দলকে ৪০০-তে পৌঁছান। ১৪৬ বলে সেঞ্চুরিও তুলে নেন পান্ত। তাতেই ঘটে বিরল এক রেকর্ড।
তাতে ২০০৬ সালের পর এই প্রথম ও সব মিলিয়ে চতুর্থবার উপমহাদেশের বাইরে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি পেলেন ভারতের তিন ব্যাটসম্যান।
একই সাথে মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে (৬) ছাড়িয়ে ভারতের উইকেটকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নেন পান্ত। তার টেস্ট সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ৭।
ভারত যখন রান পাহাড় গড়ার স্বপ্নে বিভোর, তখনই শুরু হয় নাটকীয় ধস। গিলকে ফিরিয়ে ২০৯ রানের জুটি ভাঙেন বাশির। শেষ হয় তার ২২৭ বলে ১৪৭ রানের ইনিংস।
এরপরই ভারতের পথ হারানোর শুরু। আট বছর পর টেস্ট দলে ফেরা কারুন নায়ার ফেরেন কোনো রান না করেও। একটু পর এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ হয় পান্তের ১২ চার ও ৬ ছক্কায় ১৭৮ বলে ১৩৪ রানের ইনিংস।
এই ধাক্কা থেকে আর বের হতে পারেনি ভারত। শেষ ৫ ব্যাটসম্যানের মধ্যে কেবল রাবিন্দ্র জাদেযা করেন বলার মতো ১১ রান। বাকিদের আর কেউ দুই অংকে যেতে পারেননি।
৪১ রানের ভেতর পতন হয় শেষ ৭ উইকেটের। ইংল্যান্ডের হয়ে চারটি করে উইকেট নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস ও জশ টং।
জবাব দিতে নেমে শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারেই জ্যাক ক্রলিকে (৪) ফেরান বুমরাহ। এরপর অবশ্য ১২২ রানের জুটি গড়ে উঠে বেন ডাকেট ও ওলে পোপের মাঝে।
৯৪ বলে ৬২ করা ডাকেটকেও ফেরান ডাকেট। চারে নামা জো রুটও শিকার হোন বুমরাহর। থিতু হয়েও ২৮ রানের বেশি করতে পারেননি রুট। ২০৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
তবে একপ্রান্ত আগলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ওলে পোপ। নিজের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১২৫ বলে। সমান ১০০ রানেই অপরাজিত তিনি। বুমরাহ ছাড়া ভারতের অন্য বোলাররা তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি।