শুক্রবার সকাল থেকেই বিসিবিতে হুলস্থূল। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশের ক্রিকেটে, দেখা দেয় নতুন সঙ্কটের শঙ্কা। একে একে অনেক ক্রিকেটার জড়ো হতে থাকেন বিসিবিতে। দেখা যায় তামিম ইকবালকেও।

এরপর বিসিবিতে আসেন বোর্ড প্রধান ফারুক আহমেদ। ছিলেন পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিমও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলতে থাকে রুদ্ধদ্বার সভা। সেখানে যে বড় ইস্যু ছিলেন তাওহীদ হৃদয়, তা আগেই বুঝা যায়। তবে সমাধান কী হতে পারে, তা নিয়েই ছিল কৌতূহল।

সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় পৌনে ৬টা নাগাদ। আলোচনা শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন তামিম ইকবাল। এই সময় হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞাকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘হৃদয়কে প্রথমে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন কিন্তু কেউ এটা নিয়ে কথা বলেনি। আম্পায়ার-ম্যাচ রেফারি মিলে তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিছুদিন পর দেখলাম যে দুই ম্যাচ থেকে এক ম্যাচ করা হয়েছে।’

‘এটাও বিসিবি করেছে। তখনো আমরা কিছু বলিনি। হৃদয় একটা ম্যাচ না খেলে পরের দুইটা খেলে। স্বাভাবিকভাবেই ওর যে শাস্তি ছিল, সেটা কিন্তু শেষ। দুইটা ম্যাচ খেলার পর আবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

এরপর তামিম ইকবাল বিসিবি’র এমন বারবার সিদ্ধান্ত বদলকে হাস্যকর অবিহিত করে বলেন, ‘এটা কোন নিয়মে, কিভাবে করছে, আমার জানা নাই। বিষয়টা হাস্যকর লেগেছে।’

এই প্রসঙ্গে তামিম আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পয়েন্ট বলেছি, এগুলো নিয়ে আমরা আপসেট। বলেছি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, কাল খেলা। আপনারা হয়তো দ্রুতই কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন, আমরাও জানতে পারব।’

এদিকে শুধু তাওহীদ হৃদয় নয়, কথা হয়েছে আরো বেশ কিছু ইস্যুতে। যার মাঝে ফিক্সিং ইস্যু ও বিভিন্ন বিষয়ে ক্রিকেটারদের নাম বাইরে চলে আসা নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।

বলেন, ‘কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, গুলশান আর শাইনপুকুরের ম্যাচে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আমরা বোর্ডকে বলেছি, যদি সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে আমরা সবাই চাই এর শাস্তি হোক।’

‘কিন্তু ওই দুইটা ছেলেকে ডেকে নিয়ে মিডিয়ার সামনে অভিনয় করাবেন, বিশ্বে এরকম কোথাও নিয়ম নাই..., তাদের বে-ইজ্জতি করার।’

শুধু তাই নয়, বিপএল চলাকালীন সময়ে ফিক্সিংয়ের জড়িত সন্দেহে কিছু ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ্যে চলে আসে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে এভাবে প্রকাশ্যে নাম ফাঁস হয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য অপমানজনক দাবি করেন তামিম।