বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই ইতিহাস বদলে দিলো প্রাইম ব্যাংক। নাইম শেখের অবিস্মরণীয় ব্যাটিংয়ে অভাবনীয় পুঁজি পায় দলটা। রেকর্ড বই উলটপালট করে জমা করে ডিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান। তুলে নেয় বড় জয়ও।

রোববার মিরপুরে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৪২২ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। যা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এই রান তাড়া করতে নেমে ২৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। ১৭৩ রানের জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।

রেকর্ড রানের পুঁজি গড়তে পথ দেখান নাইম শেখ। করেছেন বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি, ছুঁয়েছেন বেশ কিছু মাইলফলক। আউট হবার আগে খেলেন ১২৫ বলে ১৭৮ রানের ইনিংস। যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

এদিন দারুণ শুরু করেন সাব্বির হোসেন ও নাইম। ওপেনিং জুটিতেই জমা করেন ১৪০ রান। ৬৩ বলে ৭৩ রান করে সাব্বির আউট হোন। অন্যদিকে নাইম ৮২ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। আর দেড় শ’ করতে নেন মাত্র ২৪ বল।

একটা সময় মনে হচ্ছিল ডাবল সেঞ্চুরিটা আজ পেয়েই যাবেন তিনি। তবে এরপর থামতে হয় জাতীয় দলের এই ওপেনারকে। ১৮ চার ও ৮ ছক্কার ইনিংস শেষ হয় সালাউদ্দিন শাকিলের বলে অলক কাপালির হাতে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর আবদুল্লাহ আল মামুন ও সাজ্জাদুল হক রিপণের ৪৫ বলে ৮৪ রানের জুটিতে ভর করে দলীয় চার শ’ রান স্পর্শ করে প্রাইম ব্যাংক। মামুন ২২ বলে ৪০ রান করেন। অন্যদিকে ৩৭ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন সাজ্জাদ।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে দলীয় সংগ্রহে চার শ’ রানের দেখা পায় প্রাইম ব্যাংক। আল আমিন হোসাইন ৭৭ রানে নেন ৩ উইকেট।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এতদিন বাংলাদেশে মাটিতে সর্বোচ্চ রান ছিল ভারত জাতীয় দলের। ২০২২ সালে চট্রগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৪০৯ রান করে তারা। আজ মিরপুরে সেই রান অতিক্রম করে প্রাইম ব্যাংক।

রেকর্ড রান তাড়া করতে রেকর্ড গড়েই জিততে হতো ব্রাদার্সকে। তবে হয়নি তার কিছুই। পুরো পঞ্চাশ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি তারা। আইচ মোল্লার ১১০ বলে ৯৬ রান তাদের আড়াই শ’র কাছাকাছি পৌঁছায়।

প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শামিম পাটোয়ারী নেন দুটো করে উইকেট।

অন্যদিকে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে আবাহনী ও মোহামেডানও। রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ৪ উইকেটে আবাহনী ও আর পারটেক্স ক্লাবকে ৭ উইকেটে হারায় মোহামেডান। মোহামেডানের হয়ে ১২৫ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল।