শেষ বিকেলে রোমাঞ্চ ফিরল বটে। লড়াই হলো দাঁতে দাঁত চেপে। জেগে উঠল কিঞ্চিৎ সম্ভাবনাও। তবে শেষ পর্যন্ত জুটল হতাশাই। ফের সিলেটে জিম্বাবুয়ের কাছে হার বাংলাদেশের। আক্ষেপটা আরো একবার ২০/৩০টা রানের।
দু’ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে রোববার থেকে সিলেটে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। ভালো লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি বাংলাদেশ। বুধবার (২৩ এপ্রিল) চতুর্থ দিনে এসে টাইগাররা হেরে গেছে ৩ উইকেটে।
সিলেটে টসে জিতে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯১ রান করে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৫৬ ও নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৪০ রান। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৩ রান তুলে জিম্বাবুয়ে। মিরাজ নেন ৫ উইকেট।
৮২ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে সোমবার ৫৭ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সেই লিড ভেঙে ১১২ রানের লিড নেয় তারা। হারাতে হয় যদিও ৪ উইকেট।
তবে চতুর্থ দিনে আর সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকেরা। মাত্র ১৯ রান তুলতেই বের হয়ে আসে ইনিংসের লেজ। সকাল সকাল হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। এরপর পাওয়া বলতে জাকের আলির ফিফটি।
আগের দিন বৃষ্টির কারণে পুরো সময় খেলতে না পারায় আজ খেলা শুরু হবার কথা ছিল সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে। তবে আগের রাতের বৃষ্টিতে ভেজা মাঠ খেলার উপযোগী করতেই বেজে যায় ১১টা।
দিনের মাত্র দ্বিতীয় বলেই ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্লেসিং মুজারাবানিকে মারতে গিয়ে অনেকটা আত্মহত্যা করেন যেন তিনি। আগের দিনের ৬০ রানের সাথে এদিন আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
থিতু হয়ে যাওয়া অধিবায়ককে হারিয়ে যখন বেসামাল দল, তখন আবারো আঘাত আনেন মুজারাবানি। মেহেদী মিরাজকে ফেরান মাত্র ১১ রানে। ২১২ থেকে ২১৩ রানে যেতেই ফের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১ রান নিয়ে ফেরেন তাইজুল।
বিপদ থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা চান জাকের আলি। সাথে যোগ হাসান মাহমুদ। জুটিতে যোগ হয় ৩৫ রান। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন জাকের। তবে এরপর পরই ৫৮ বলে ১২ রান করে ফেরেন হাসান।
পরের বলেই ফেরেন খালেদ আহমেদ (০)। আর মুজারাবানির বলে ৫৮ রানে আউট হন জাকের আলি। ৭৯.২ ওভারে ২৫৫ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৪ রান।
ইনিংসে একাই ৬ উইকেট নেন মুজারাবানি। ২ উইকেট পেয়েছেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, নিয়াউচি এবং নারাভা একটি করে উইকেট নেন।
১৭৪ রানের ছোট পুঁজি। জয়ের জন্য শুরু থেকেই চেপে ধরতে হতো জিম্বাবুয়েকে। তবে তা করতে পারেননি মিরাজ- নাহিদরা। লক্ষ্য তাড়ায় সাবলীল শুরু পায় সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৯৫ রান।
দুই ওপেনার বেন কারেন ও ব্রায়ান বেনেট কঠিন মিলে পরীক্ষাই নেন টাইগার বোলারদের। ২১ ওভারের শেষে বেন কারেনকে ফিরিয়ে প্রথম উপলক্ষ নেনে দেন মিরাজ। কারেন আউট হোন ৭৫ বলে ৪৪ রান করে।
তবে বেনেট ধরে রাখেন হাল তুলে নেন ফিফটি। তাকেও ফেরান মিরাজ। দলীয় ১২৮ রানে তার বিদায়ে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় জিম্বাবুয়ের। মাঝে নিক ওয়েলচকে ১০ রানে তাইজুল ও শন উইলিয়ামসকে ৯ রানে ফেরান মিরাজ।
উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের সুবাতাস পাওয়া জিম্বাবুয়ে দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে যেন বড় ধাক্কা খায়। যদিও জয়ের পাল্লা হেলে ছিল জিম্বাবুয়ের দিকেই, প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৬ রান। তবে চলতে থাকলো ম্যাচে ফেরার চেষ্টা।
চেষ্টার রাখলেন না তাইজুল-মিরাজরা। যখন জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৩০ রান, তখন রিভিউ নিয়ে ক্রেইগ আরভিনকে ১০ রানে ফেরান তাইজুল। ১ রান যোগ হতেই ফের আঘাত আনেন মিরাজ।
১৪৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকে জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে নিজেদের সবটা দিয়ে চেষ্টা চালাতে থাকে টাইগাররা। তবে ওয়েসলি মাধেভেরে ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা চেপে থাকেন মাঠে।
জয় থেকে ১৩ রান দূরে থাকতে মাসাকাদজাকেও ফেরান মিরাজ। তুলে নেন ইনিংসে নিজের পঞ্চম ও ম্যাচে নিজের দশম উইকেট। সেইসাথে পেয়ে যান সাদা পোশাকে নিজের ২০০তম উইকেটের দেখাও।
তবে মাধেভেরে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এনগারাবা। বৃথা যায় বাংলাদেশের চেষ্টা। সাত বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল জিম্বাবুয়ে।
এই নিয়ে সিলেটে পরপর দুই টেস্ট জিতে নিলো জিম্বাবুয়ে। শেষবার ২০১৮ সালে যখন বাংলাদেশে এসেছিল সিরিজ খেলতে, তখনো এই সিলেটে হেরে যায় স্বাগতিকেরা। আজকের হারে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।