তাওহীদ হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফের নাটকীয়তা। আবারো সুর বদলালো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্থগিত হয়েছে হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা! দেশের ক্রিকেটে যেন চলছে হ-য-ব-র-ল এক অবস্থা।
কখনো ক্লাবের চাপে বদলে বদলে যাচ্ছে নিয়ম। কখনো আম্পায়ারদের চাপে সরে আসতে হচ্ছে অবস্থান থেকে। আবার কখনো ক্রিকেটারদের চাপে নিতে হচ্ছে নতুন সিদ্ধান্ত। তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তি ঘিরে দোলাচালে বিসিবি।
যাই হোক নতুন খবর হলো, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিসিবি’র সাথে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ মিটিংয়ের পর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের। এক বছর পর ফের কার্যকর হবে তার শাস্তি।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকাল থেকেই। তামিম ইকবালের ডাকে সকাল থেকে মিরপুরে আসতে শুরু করেন ডিপিএল খেলতে থাকা ক্রিকেটারদের অনেকেই।
ফলে হুলুস্থুল লেগে যায় দেশের ক্রিকেটে, দেখা দেয় নতুন সঙ্কটের শঙ্কা। সকাল ১১টা থেকে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ও পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিমের সাথে চলতে থাকে ক্রিকেটারদের আলোচনা।
অবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয় তাদের আলোচনা। বের হয়ে অল্প সময় মিডিয়ার সাথে কথা বলেন তামিম। এই সময় হৃদয়ের শাস্তি নিয়ে বিসিবি’র টালবাহানাকে হাস্যকর অবহিত করেন তিনি। সেইসাথে দ্রুত একটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত চান।
এরপর পরই আসে বিসিবি’র নতুন ঘোষণা। জানা যায় হৃদয়ের বাকি থাকা এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এই মৌসুমে আর কার্যকর হচ্ছে না। এই শাস্তি তিনি ভোগ করবেন আগামী বছরের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে।
এদিকে বিসিবি’র এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ হতে পারেন আম্পায়াররা। বিশেষ করে শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকত। আইসিসির এলিট প্যানেলের তালিকাভুক্ত এই আম্পায়ার ফের সরে দাঁড়াতে পারেন বিসিবি’র চাকরি থেকে।
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ এপ্রিল। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে। যেখানে আম্পায়ারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তাওহীদ হৃদয়। ফলে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। তবে এখানেই শেষ নয়, পরবর্তী সময়ে ফের আম্পায়ারদের নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।
ফলে হৃদয়কে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়ার পাশাপাশি আরো এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সবকিছু ঠিক ছিল। তবে হঠাৎ অদৃশ্য কিছুর ইশারায় কমে যায় শাস্তি, এক ম্যাচ পরেই মাঠে ফেরেন হৃদয়।
যার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, হৃদয়ের দল মোহামেডান শাস্তি কমানোর জন্য টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আবেদন করে। কিন্তু তারা সাড়া না দেয়ায় তাদের উপেক্ষা করেই আম্পায়ারস বিভাগ নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে দেয়।
অথচ আম্পায়ারস বিভাগের এই এখতিয়ার নেই। শাস্তি কমাতে পারে শুধু সিসিডিএম ও টেকনিক্যাল কমিটি। তবুও ৭ ডিমেরিট পয়েন্ট থেকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট মুছে দেয়া হয়। ফলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও হ্রাস পায়।
এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনায় বিসিবির কোড অব কনডাক্টে পরিবর্তন আনা হয়। আগের নিয়মে ৪-৭ ডিমেরিট পয়েন্টে দু’ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নতুন নিয়মে তা কমিয়ে এক ম্যাচ করা হয়।
এমতাবস্থায় অপমানিত বোধ করেন সেই ম্যাচে দায়িত্বে থাকা শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকত। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েই বিসিবির চাকরি ছেড়ে দিতে চান আইসিসির এলিট তালিকায় থাকা এই আম্পায়ার। এমতাবস্থায় নড়েচড়ে বসে ক্রিকেট বোর্ড।
জরুরি সভায় বসেন আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান ইফতেখার রহমান ও শরফুদ্দৌলা। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসে তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তি পুনর্বহালের। অর্থাৎ পরবর্তী ম্যাচেই কার্যকর হবে তার নিষেধাজ্ঞা। আর চাকরিতে ফিরবেন শরফুদ্দৌলা।
তবে এবার বদলে গেল এই সিদ্ধান্তও। দেখা যাক নাটকের আর কতো বাকী!