গতরাতে শারজায় পারভেজ ইমন যতক্ষণে থামলেন, ততক্ষণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে পেয়ে গেছেন টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। গড়েছেন ছক্কার রেকর্ডও।

একের পর এক ছক্কায় ইমন সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ৫৩ বলে। যা বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো ফরম্যাটেই দ্রুততম। সব মিলিয়ে হাঁকান ৯ ছক্কা। যা এক ইনিংসে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। এমন ইনিংসের পর বেশ উচ্ছ্বসিত ইমন।

ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে পারভেজ ইমন জানিয়েছেন উচ্ছ্বসিত অনুভূতির কথা। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে বলেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার প্রথম সেঞ্চুরি। এটা আমার জন্য তাই বিশেষ।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন মোটে ৮টি। সবগুলোই টি-টোয়েন্টি। যেখানে নেই আর কোনো ফিফটি। আগের সেরা ৩৯।

এদিকে পারভেজ ইমন যখন বিস্ফোরিত, দলের বাকিরা তখন আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত। ইমনের ইনিংস ছাড়া বলার মতো রান পাননি আর কেউ। ফিফটি তো দূর, ২০ রান করেন কেবল তাওহীদ হৃদয়।

বাকিদের এমন ব্যর্থতায় ইমনের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও দুই শ’ পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। ইনিংসের শেষ তিন ওভারে আসে মাত্র ২২ রান।

যা নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেল অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, ‘উইকেট ভালো ছিল ব্যাট করার জন্য। পারভেজ যেভাবে খেলেছে এটা দেখার জন্য অসাধারণ ছিল। কিন্তু আমাদের ভালো শেষ করতে হতো, শেষ তিন ওভারে আমরা তেমন কিছু করতে পারিনি।’

রান তাড়ায় একটা সময় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আরব আমিরাত। মোহাম্মদ ওয়াসিম, রাহুল ও আসিফ খান ব্যাট চালান বেশ। হয়ে উঠেন গলার কাঁটা। তবে ইনিংসের মাঝে এসে তাদের চেপে ধরেন পেসাররা।

লিটনের দাবি, ঘাবড়ে যাননি তিনি। বলেন, ‘আমি জানতাম বোলাররা যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে, আমি তাদের শক্তি সম্পর্কে জানি। তারা যেভাবে মাঝের ওভারে ব্যাট করেছে, আমাদের নিজেদের বোলিংয়েও ফোকাস করতে হবে। এই মাঠে কী ধরনের বল ভালো হয়, সেটা দেখতে হবে।’

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি থেকে জয় ছাড়াও কিছু ইতিবাচকতা খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন লিটন, ‘আত্মবিশ্বাস- যেভাবে সবাই বল করেছে, সবাই যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখেছে। মাঝে মনে হচ্ছিল ৫০-৫০ হয়ে গেছে। কিন্তু যেভাবে বোলাররা বল করেছে, অসাধারণ হয়েছে।’

শারজাতেই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামীকাল সোমবার। যা জিতে সিরিজ জিতে নিতে চাইবে বাংলাদেশ।