পিএসলে স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছেন রিশাদ হোসেন। যেন উড়ছেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেও নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে এবার ছিলেন আরো ভয়ংকর। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচেই দখল নিয়েছেন ‘ফজল মেহমুদ’ ক্যাপ।
গত রোববারও ৩ উইকেট নিয়ে পিএসএলে নিজের অভিষেক ম্যাচটা রাঙিয়ে রেখেছিলেন রিশাদ। তার দল লাহোর কালান্দার্স সেদিন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারিয়েছিল ৭৯ রানে।
ধারা ধরে রাখলেন মঙ্গলবার নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও। তবে এবার যেন আরো ধারালো, আরো ভয়ংকর। মাত্র ১১ বলের মাঝেই মাত্র ৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট! যদিও পরের দুই ওভারে ২২ রান দিয়ে আর কোন উইকেট পাননি।
তবে রিশাদের শুরুর সেই বিধ্বংসী রূপই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ব্যাটারদের কল্যাণে যদিও সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল লাহোর। করাচিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ২০১ রান করে লাহোর।
ব্যাট হাতে ফখর জামানের ৪৭ বলে ৭৬ আর ড্যারিল মিচেলের ৪১ বলে ৭৫ রানের ইনিংস দুটিই মূলত লাহোরের সংগ্রহ দুই’শ পেরিয়ে যায়। ব্যাট হাতে শেষ বলে রান আউট হবার আগেন ৩ বলে ২ রান করেন রিশাদ।
তবে বল হাতেই করেন আসল কাজ। রান তাড়ায় নেমে দলের খাতায় কোনো রান যোগ করার আগেই শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হন ডেভিড ওয়ার্নার ও জেমস ভিন্স। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন টিম সেইফার্ট ও শান মাসুদ।
তবে তাদের সুযোগ দেননি রিশাদ হোসেন। অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট তুলে নেন রিশাদ। ১৪ বলে ১৮ রান করা মাসুদকে ফেরানোর পর ৭ বলে ৬ রান করা ইরফানকেও ফেরান রিশাদ।
দশম ওভারে ফের আক্রমণে এসে করাচিকে বিপর্যয়ে ফেলেন রিশাদ। ৩ বলে ১ রান করে তার শিকার হন আব্বাস। ফলে ১০ ওভারে মাত্র ৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে করাচি।
সেখান থেকে খুশদিল শাহ ও হাসান আলি মিলে দলকে তিন অংকের ঘরে নিয়ে গেলেও, জয় থেকে ছিলেন বহু দূরে। ১৯.১ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানে থেমেছে করাচি। ৬৫ রানের বড় জয় পেয়েছে লাহোর কালান্দার্স।
৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন শাহিন আফ্রিদি, ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। প্রথম ম্যাচেও ৩ উইকেট নেয়ায় দুই ম্যাচে রিশাদের উইকেট এখন ৬। তাতে যৌথভাবে এই মুহূর্তে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় আছেন তিনি।
আবরার আহমেদেরও সমান ৩ উইকেট থাকলেও ইকোনমিতে এগিয়ে থেকে ফজল মাহমুদ ক্যাপ পেয়েছেন রিশাদ।