বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে ডেকেছে বিসিবি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বোর্ডকে না জানিয়ে চীন সফরে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবির মতে, কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে বিদেশ সফরের আগে বোর্ডকে অবহিত না করায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
রোববার অনুষ্ঠিত শুনানিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন লিটন। এখন তার বক্তব্য মেডিক্যাল কমিটির তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখবে বিসিবি। এরপরই শৃঙ্খলা কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
লিটন বর্তমানে কাফ পেশির চোটে ভুগছেন। বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া সেই চোটের কারণে তিনি টি–টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি। পরে জিম্বাবুয়ে সফরেও খেলা হয়নি।
দলে যোগ দিলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় দেশে ফিরে আসেন। একই চোটের কারণে চলমান লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও অংশ নিতে পারেননি। সোমবার তার সিঙ্গাপুরে গিয়ে চোটের সর্বশেষ অবস্থা মূল্যায়ন করানোর কথা রয়েছে।
বিসিবির অভিযোগ, জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফেরার পর বোর্ডকে না জানিয়েই চীন সফরে যান লিটন। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকায় বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বোর্ড। এ কারণেই তাকে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, শুনানিতে লিটন যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি মেডিক্যাল কমিটির সাথে আলোচনা করেই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে।
আলমগীর বলেন, ‘লিটনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো উল্লেখযোগ্য অভিযোগ নেই। সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে। তার মতে, এটি ইচ্ছাকৃত নিয়মভঙ্গের ঘটনা নয়, বরং যোগাযোগের ঘাটতির ফল।’
তবে যোগাযোগের ঘাটতি থাকলেও কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিসিবি পরিচালক আরো বলেন, ‘ঘটনাটি ছোট হলেও এর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়।’
বোর্ড সভাপতি থেকেও ক্রিকেটারদের কাছে শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কোনো ক্রিকেটারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বোর্ড মেনে নেবে না। তিনি যত বড় খেলোয়াড়ই হোন না কেন।’
তবে লিটনকে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে না নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আচরণবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি।