সমালোচনার মুখে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে সরিয়ে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব দেয়া হয় গাজীদ আশরাফ লিপুকে। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনিও জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক বিতর্কের।

আসন্ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণার মধ্য দিয়ে যেন বিতর্কের ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন গাজী আশরাফ। ক্রিকেটপাড়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক। নতুন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের ওয়ানডে দলে আছে বেশ চমক।

দুই বছরের বেশি সময় পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন নাঈম শেখ। ২০২৩ সালে এশিয়া কাপের পর পড়বেন জাতীয় দলের জার্সি। ফিরেছেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে না থাকা লিটন দাস, শামীম পাটোয়ারী ও হাসান মাহমুদ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াড থেকে নেই চার ক্রিকেটার। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, দু’জনই অবসর নিয়েছেন। আর এর বাইরে নাসুম আহমেদ ও সৌম্য সরকার বাদ পড়েছেন।

নিজেকে প্রমাণ করেই দলে ফিরেছেন নাঈম শেখ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১১ ম্যাচ খেলে ৬১৮ রান করেছেন তিনি। শেষ বিপিএলেও ছিলেন সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ৫১১ রান।

তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। তবে তিনিও ছন্দেই ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ০ রানে ফেরার আগের ইনিংসেই করেন ৭৩। ডিপিএলেও করেন এক সেঞ্চুরিতে ৩৯৯।

তবে সমালোচনার বড় কারণ লিটন দাস। গত প্রায় দেড় বছর ধরেই ওয়ানডেতে তার ব্যাটে রান নেই। শেষ ৭টি ওয়ানডেতে মাত্র ১৩ রান করেছেন লিটন। স্কোরগুলো হলো- ৬,১,০,০,২,৪ ও ০।

এমন বাজে পারফরম্যান্সের কারণে জায়গা হয়নি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও, তাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেন গাজী আশরাফ নিজেই। তবে হঠাৎ তাকে ফেরানো হয়েছে দলে।

অথচ দল থেকে বাদ পড়ার পর কেবল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৬ ম্যাচ খেলেন লিটন। ২ ফিফটিতে করেন ২৩৭ রান। জাতীয় দলের হয়ে অন্য ফরম্যাটেও ছন্দে নেই তিনি। ফিফটি করতে তো ভুলেই গিয়েছিলেন!

২৫ ইনিংস পর সদ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে ফিফটির দেখা পান লিটন। খেলেন ৯০ রানের ইনিংস। এই যখন অবস্থা, তখন কিভাবে ফিরলেন দলে? এমন প্রশ্নের উত্তরে অদ্ভুত এক যুক্তি দেন গাজী আশরাফ।

জানান, ‘তিনি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক, তাই আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমরা তাকে বিবেচনায় রাখতে পারি। কারো যদি ফর্মে ফিরতে হয়, তাহলে তার জন্য মাঠে যত বেশি সম্ভব সময় কাটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অথচ দারুণ ছন্দে থেকেও দলে সুযোগ হয়নি নুরুল হাসান সোহানের। ছন্দ তো বটেই, অধিনায়কের চাওয়াও উপেক্ষা করেছেন প্রধান নির্বাচক। অথচ তাকে দলে না রাখার কারণ হিসেনে গাজী আশরাফ বলেন, ‘একই দলে আমরা একাধিক উইকেটরক্ষক নিতে পারি না।’

অথচ চলতি শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলই কি না প্রধান নির্বাচক সাজিয়েছেন ৪ উইকেট কিপার দিয়ে! সেখানে সোহানকে তো বলা হয় বাংলাদেশের সেরা উইকেট কিপার। তবুও কেন উপেক্ষিত।

আর ব্যাট হাতে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ পারফর্ম করেন সোহান। ধানমন্ডির হয়ে ১১ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে করেন ৫১২ রান করেন। যেখানে গড় ৫৮ ও স্ট্রাইকরেট ৯৩.৫৪।

গত লিগেও এক সেঞ্চুরি ও তিন হাফ সেঞ্চুরিতে করেন ৪৯৫ রান। এই তো কিছুদিন আগে ‘এ’ দলের সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি শতক হাঁকান সোহান। এমন পারফরম্যান্সের পর দলে জায়গা না পেলে প্রশ্ন উঠবেই।

এদিকে শামীম পাটোয়ারীর অন্তর্ভুক্তিও বিস্ময়ের। প্রায় দুই বছর ওয়ানডে দলের বাইরে তিনি। ৪ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে তার মোট রান মাত্র ১৬। আবার দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেও সুবিধা করতে পারেননি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে তিন ইনিংসে করেন ৪, ৭ আর ৮ রান। এমতাবস্থায় তাকে জায়গা দিতে সুযোগ হয়নি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। অথচ সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক তিনি।

শুধু তাই নয়, ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। জিতেন ম্যান অফ দ্য ফাইনালের পুরস্কারও।

ব্যাট হাতে ৪৮৭ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন আসরের সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট। তবুও তার জায়গা না হওয়ার কারণ হিসেবে গাজী আশরাফ বিস্ময়কর এক মন্তব্য করে বসেন। বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, যতক্ষণ মিরাজ আছে, মোসাদ্দেকের দলে ঢোকার সুযোগ নেই।’

অর্থাৎ একদলে দু’জন অফ স্পিন অলরাউন্ডার খেলাটাকে অপরাধ হিসেবেই দেখছেন যেন গাজী আশরাফ।

স্পিনার দলভুক্ত করা নিয়েও আছে বিতর্ক। ডিপিএলে ১৬ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট নেয়া রকিবুল হাসান দলে নেই, নেই ১১ ম্যাচে ২৩ উইকেট নেয়া তাইজুলও। তবে রাখা হয়েছে ১৩ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেয়া তানভীরকে।

অর্থাৎ অনেক প্রশ্ন রেখে, অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়ে এবার ঘোষণা করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা সিরিজের দল। যার নেই যৌক্তিক কোনো ব্যখ্যা। স্বাভাবিকভাবেই বইছে সমালোচনার ঝড়।