চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যায় ‘থাপ্পড় কাণ্ড’। যার জেরে চাকরিও যায় হাথুরুর। তবে ঘটনার প্রায় আট মাস পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন তৎকালীন দলের দুই কোচ রঙ্গনা হেরাথ ও নিক পোথাস।
ভারত বিশ্বকাপে প্রত্যাশানুযায়ী খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের মতো আইসিসির সহযোগী সদস্যের কাছেও হারে টাইগাররা। এমন ভরাডুবির কারণ অনুসন্ধান করতে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি।
সেই অনুসন্ধানে কোচ হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ ওঠে আসে। চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে না কি স্পিনার নাসুম আহমেদকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছিলেন এই লঙ্কান কোচ।
পরে নানা গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, নাসুমকে না কি থাপ্পড় মেরেছিলেন হাথুরুসিংহে। সেই ঘটনায় বিসিবি তখন কোনো অ্যাকশন না নিলেও, পরে ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নিলে আবার উঠে আসে এই প্রসঙ্গ।
ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিটি সেই ঘটনার জেরে প্রধান কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেন হাথুরুসিংহেকে। তবে লঙ্কান কোচ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। এবার হাথুরু তার পক্ষে পেলেন সাবেক দুই সহকর্মীকে।
দলের সেই সময়ের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ ও সহকারী কোচ নিক পোথাস অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম কোড স্পোর্টকে নাসুমকে থাপ্পড় মারার ঘটনাটিকে বানোয়াট ও রঙ চড়ানো বলে দাবি করেছেন।
পোথাস বলেন, ‘আমি তাকে খুব ভালোভাবেই জানি। সে একজন খুবই, খুবই আন্তর্জাতিকমানের এবং পেশাদার কোচ। সে নাসুমের সাথে এমন কিছু করলে এতোটা উচ্চ পর্যায়ে এতদিন টিকতে পারতেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যিনি এই অভিযোগ করেছিলেন, তার মনে সম্ভবত কোনো ক্ষোভ ছিল। বা তিনি সম্ভবত ভাবেননি যে বিষয়টা এভাবে বিস্ফোরণ ঘটাবে। যা কঠিন করে তুলেছে হাথুরুর ক্যারিয়ার।’
পোথাস এরপর বলেন, ‘খেলোয়াড়দের পিঠে চাপড় দেয়া সবসময়ই ঘটে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে হাতের সঙ্কেতের মাধ্যমেও অনেক সময়ই যোগাযোগ করতে হয়। তবে তা আঘাত নয়।’
অন্যদিকে রঙ্গনা হেরাথ এই অভিযোগকে রঙ চড়ানো দাবি করে বলেন, ‘আমি সোজাসুজিই বলতে পারি এমন কিছু ঘটেনি। বিশ্বকাপের সময় অনেক ক্যামেরা তার চারপাশে ছিল।’
‘মানুষ বলতেই পারে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আপনার কাছে তো প্রমাণ থাকতে হবে। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি এমন কিছু ঘটেনি। কারণ আমি সেখানে ছিলাম। চড় দেয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।’