মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল বাংলাদেশ। গল টেস্টের বিপরীত রূপ দেখা গেল কলম্বোতে। গলে যেখানে হচ্ছিলো রান বন্যা, কিন্তু এখানে অনেকটা রানখরায় ভুগছে টাইগাররা। প্রথম দিনে নেই কোনো ফিফটি।
অস্বস্তি নিয়েই শেষ করেছে প্রথম দিন। ৭১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তুলতে পেরেছে ২২০ রান। তাইজুল ইসলাম ৯ আর এবাদত হোসেন ৫ রানে অপরাজিত আছেন।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বুধবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। কলম্বোতে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তবে ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ৭৬ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। চাপের শুরুটা করেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ১০ বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন তিনি।
৪.২ ওভারে মাত্র ৫ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। আউট হবার আগে আরো দুইবার জীবনও পান তিনি। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বিজয়। বিজয়ের পর হতাশ করেন মুমিনুল হকও।
শ্রীলঙ্কায় মোটেও হাসছে না তার ব্যাট। দেশসেরা এই টেস্ট ব্যাটসম্যান আটকা পড়েছেন ব্যর্থতার বৃত্তে। গলের পর কলম্বোতেও ধরাশায়ী তিনি। যার মাশুল দিতে হচ্ছে দলকে।
মুমিনুল ফেরেন থিতু হয়ে, ৩৯ বলে ২১ রান করে। ভাঙে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি। দলীয় ৪৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হাল ধরার চেষ্টা করেন সাদমান ও শান্ত।
মধ্যাহ্নভোজের আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি দল। তবে বিরতির পর আর পারেনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে ফেরেন দুইজনেই। গলে জোড়া সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্ত এবার যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরেই।
বিশ্ব ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে ধরা পড়েন কুসাল মেন্ডিসের গ্লাভসে। ২৮ ওভারের শেষ বলে ফিরতে হয় ৩১ বলে ৮ রানে। পরের ওভারে ফেরেন সাদমান।
ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে সাদমান আউট হন ৯৩ বলে ৪৬ রান করে। থারিন্দু রত্নানায়েকের শিকার তিনি। তাতে ৭৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপরই নামে বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে খেলা।
এরপর মুশফিক ও লিটন মিলে জুটি গড়ে লড়াই করার চেষ্টা চালান। কিন্তু লিটনের ভুলে সেই জুটি ৬৭ রানের বেশি বড় হয়নি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫২ বলে ৩৪ করে।
৫ উইকেটে ১৪৪ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মাঠে থাকা মুশফিকের দিকেই তখন সবাই তাকিয়ে। তবে হতাশ করেন তিনিও, সেই স্লগ সুইপ করে ‘আত্মহত্যা’ করেন মুশফিক।
৭৫ বলের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। এবার সবার নজর যায় এক ম্যাচ পর দলে ফেরা মেহেদী মিরাজের দিকে। নাঈম হাসানকে নিয়ে ৩৭ রানের একটি জুটিও গড়ে ফেলেছিলেন তিনি।
কিন্তু বিশ্ব ফার্নান্দোর শিকার হয়ে তাকেও থামতে হয় ত্রিশের ঘরেই, ৪২ বলে ৩১ রানে। ১৯৭ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আর নাঈমকে (২৫) শেষ বিকেলে ফেরান আসিথা।
দিনের বাকি সময় পার করে দেন তাইজুল ইসলাম ও দুই বছর পর টেস্ট খেলতে নামা ইবাদত হোসেন। আর শেষ হয় কোনো ফিফটি ছাড়াই বাংলাদেশ দলের একটা দিন।