বেঁচে থাকাই যেন বিষ্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনে। প্রতিটি মুহূর্তই যেন কাটছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। প্রতিটি নিঃশ্বাসেই মিশে আছে আতঙ্ক, এই বুঝি বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে শরীর।
নিরীহ-নিরপরাধ সাধারণ মানুষ তো বটেই, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিভৎসতার শিকার ক্রীড়াঙ্গনের তারকারাও। যার সর্বশেষ সংযোজন বাস্কেটবল তারকা মোহাম্মদ শালান।
গাজার মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে নিজের সন্তানের জন্য খাবার ও ওষুধ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ফিলিস্তিন জাতীয় বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় শালান।
জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) গাজা উপত্যকার এক এলাকায় মেয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার সংগ্রহ করতেই ঘর থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু দখলদার বাহিনীর বর্বর গুলিতে সেদিনই থেমে যায় তার জীবন। ক্ষুধার্ত মেয়ের জন্য আর খাবার নিয়ে ঘরে ফেরা হয়নি তার। মেয়ের হাতে আর পৌঁছে দিতে পারেননি ঔষধ।
মোহাম্মদ শালানের কন্যা মারইয়ম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। তাকে বাঁচাতে বহুবার আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন এই ক্রীড়াবিদ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের জন্য কিছুই জোগাড় করতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। আর কখনো বাস্কেটবল মাঠে দেখা যাবে না আর্থকোয়াক (ভূমিকম্প) নামে খ্যাত এই তারকাকে।
মোহাম্মদ শালান ফিলিস্তিনের হয়ে একাধিক আরব ও আন্তর্জাতিক বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বহু গর্বের মুহূর্ত এনে দিয়েছেন তিনি।
সপ্তাহ দুয়েক আগে মানবিক সাহায্যের জন্য ঘর থেকে বের হয়ে নিহত হয়েছিলেন ফিলিস্তিনের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় সুলেইমান আল-ওবেইদ। যিনি ‘পেলে অব প্যালেস্টাইন ফুটবল’ নামে পরিচিত ছিলেন।