ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে শুক্রবার বেইজিংয়ে রাশিয়া ও ইরানের সাথে একটি বৈঠক করবে চীন। আলোচনায় উভয় দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করবেন।

বুধবার (১২ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২২ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। দেশ দু’টি জানুয়ারিতে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চীনের সাথে উভয় দেশেরই সুসম্পর্ক রয়েছে।

বুধবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওজু এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

ইরানের অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্প্রসারণের বিষয়ে একই দিনে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গত সপ্তাহে রাশিয়া বলেছে, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তার রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির সাথে আলোচনা করেছেন। ইরানের সাথে যোগাযোগে রাশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে আসছে। তবে জাতিসঙ্ঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ সতর্ক করে দিয়েছে, ইরান ‘নাটকীয়ভাবে’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ত্বরান্বিত করছে, যা প্রায় ৯০ শতাংশের অস্ত্র-গ্রেড স্তরের কাছাকাছি।

২০১৫ সালে ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরান একটি যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা চুক্তিতে সম্মত হয়, যার ফলে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং ইরানও তার পারমাণবিক-সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে শুরু করে।

চীন বলেছে, তারা ইরানের বৈধ অধিকার রক্ষায় এবং ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দ্রুত পুনরায় শুরু করার আহ্বানে সমর্থন করে।

সূত্র : রয়টার্স