জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বৃহস্পতিবার গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছে। এতে বিশেষ করে ইসরাইলি বন্দীদের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইসরাইল দাবি করছে, তাদের সামরিক অভিযান চলবে যতক্ষণ না সমস্ত বন্দী মুক্তি পায়। তবে বেশ কয়েকটি পরিষদ সদস্য দেশ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে এবং কূটনীতি ও উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

একটি শিশু অধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে যে ইসরাইলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিমতীরের দুই ফিলিস্তিনি শিশুকে কাপড় খুলতে বাধ্য করে, অপমান করে, আতঙ্কিত করে এবং আটক করে। এরপর তাদের দাদিকে গুলি করে হত্যা করে।

ডিফেন্স ফর চিলড্রেন প্যালেস্টাইন (ডিসিআইপি) জানিয়েছে, ১০ মার্চ জেনিনের পশ্চিমে অবস্থিত দাদাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল ইব্রাহিম আবু ঘালি (৭) ও ওমর মোহাম্মদ দিরার জাবেন (১৩)। ফজরের আজান শোনার জন্য বাইরে গেলে ইসরাইলি সেনারা তাদের দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ইসরাইলি সেনারা দুই শিশুকে ও তাদের দাদাকে বন্দুকের মুখে অন্তর্বাস পর্যন্ত কাপড় খুলতে বাধ্য করে। তিনজনের হাত কেবল টাই দিয়ে বেঁধে শীতের ঠান্ডার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা খোলা জায়গায় আটকে রাখা হয়। পরে তাদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় মাটিতে ফেলে বা সামরিক গাড়িতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিসিআইপির কর্মকর্তা আয়েদ আবু ইকতাইশ বলেন, ‘শিশুদের কাপড় খুলতে বাধ্য করা, তাদের অবমাননাকর পরিস্থিতিতে আটকে রাখা এবং মানসিকভাবে আতঙ্কিত করা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং এটি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শামিল।’

প্রায় ১২ ঘণ্টা ‘বেআইনি আটক’ থাকার পর, দুই শিশুকে সামরিক ট্রাকের পেছনে বসিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়া হয়, তখনো তারা অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় ছিল। বাড়ি ফিরে তারা জানতে পারে, তাদের দাদি ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা