ইসরাইলি পণবন্দীদের লাশ হস্তান্তর ও এর বিনিময়ে শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর মধ্যে দিয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে আরেক দফা বন্দী বিনিময় হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে ইসরাইল ও হামাসের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি সপ্তাহে শনিবার ৬০০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের মুক্তি দেয়নি ইসরাইল। স্থানীয় সময় রোববার সকালে এক ঘোষণার মাধ্যমে বন্দী বিনিময় স্থগিত করা হয়। ইসরাইলি পণবন্দীদের মুক্তির সময়ে ‘অপমানজনক অনুষ্ঠান’ করার প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেয় নেতানিয়াহু প্রশাসন।

এদিকে ইসরাইলের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায় হামাস। একে যুদ্ধবিরতির চুক্তির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, বন্দীদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় বসবেন না তারা।

এ অচলাবস্থার কারণে চলমান ছয় সপ্তাহের প্রথম ধাপের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

তবে মঙ্গলবার বিবৃতিতে হামাস জানায়, সশস্ত্র দলটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা খলিল আল হায়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কায়রো সফরকালে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।

গত শনিবারে যেসব ফিলিস্তিনির মুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল চুক্তি অনুযায়ী তাদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইলি পণব্ন্দীদের লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে হামাস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি কর্মকর্তাও পণব্ন্দীদের লাশ ফিরিয়ে আনার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারই হতে পারে এই বিনিময়। কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ছাড়াই মিশরের কর্তৃপক্ষের কাছে ইসরাইলি পণব্ন্দীদের লাশ হস্তান্তর করা হবে।

বন্দী বিনিময়ে অগ্রগতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যপ্রাচ্যে সফরের পথও সুগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় বাকি পণবন্দীদের মুক্তি ও যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে আলোচনাতে উইটকফের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি