অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পূর্ব গাজা শহর ও উত্তরে বেইত হানুনে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং দুই নারী আহত হয়েছেন।

এছাড়াও গাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে আরো সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ইসরালের গণহত্যায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৫২৪ জনে।

হাসপাতালের এক সূত্র জানিয়েছে, বেইত হানুনে তাদের তাঁবুতে বোমা হামলার পর ২ বছর বয়সী একটি শিশু নিহত ও তার মা আহত হয়েছেন।

এদিকে পূর্ব গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় একটি ইসরাইলি ড্রোনের গুলিতে ৩ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে এবং উত্তর গাজার বেইত হানুনে ড্রোন হামলায় একজন নারী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দক্ষিণ গাজার পূর্ব খান ইউনিসের আবাসান আল-কাবিরার সানাতি এলাকা ও আল-ফারাহিন এলাকায় ইসরাইলি ট্যাঙ্কগুলো গুলি চালিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানিয়েছে, পূর্ব আবাসান আল-জাদিদায় একটি ড্রোন আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে বোমা ফেলেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৫২৪ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরো ফিলিস্তিনিদের লাশ পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যার মধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সাতজনের লাশ এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুইজন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরো ১৪ জন আহত ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে ইসরাইলের আক্রমণে আহতের সংখ্যা এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

গাজায় ১৯ জানুয়ারি থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘন করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি