তুরস্কের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইস্তাম্বুলের মেয়র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুকে গ্রেফতারের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে। তার প্রতি সমর্থন জানাতে শুক্রবার টানা তৃতীয় দিনের মতো ইস্তাম্বুলের রাস্তায় নেমে আসে তিন লাখেরও বেশি মানুষ।
‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের’ সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার ভোরে মেয়রকে গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ আরো কয়েক ডজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটকের পর সরকার রাজনৈতিক বিক্ষোভের ওপর চারদিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
ইস্তাম্বুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ইমামোগলুর ডিপ্লোমা বাতিল করার একদিন পর এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। তাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয় কারণ তুরস্কের সংবিধান অনুসারে দেশের সর্বোচ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। তবে ইমামোগলু বলেছেন, তিনি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবেন।
বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ওজগুর ওজেল বলেন, ইস্তাম্বুলজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।
এদিকে শুক্রবার এরদোগান বলেন, সরকার রাস্তায় বিক্ষোভ সহ্য করবে না। তিনি ইমামোগলুকে দুর্নীতি ও ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
সরকারি সমালোচকরা ইমামোগলুর গ্রেফতারকে তুরস্কের পরবর্তী জাতীয় ভোট থেকে এরদোগানের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা বিরোধী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, তুরস্কের আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ইমামোগলুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে বুধবার ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তা দ্রুত তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের মধ্যে ৩২টিতেই ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৮৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, ১৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা