গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি হামলার পর ইসরাইলি-আমেরিকান পণবন্দী এডান আলেকজান্ডারের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে হামাসের সামরিক শাখা।

আলেকজান্ডারকে কেন্দ্র করেই ইসরাইলের পক্ষ থেকে একটি ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যার আওতায় ১০ জীবিত পণবন্দীকে মুক্তি চাওয়া হয়েছে।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে আলেকজান্ডারকে জীবিত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে তিনি ইসরাইল সরকারের সমালোচনা করেন, যদিও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চাপে পড়ে কথা বলছিলেন। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জানাচ্ছি, একটি সরাসরি হামলার পর এডান আলেকজান্ডারকে পণবন্দী করে রাখা দলের সাথে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আমরা এখনো তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

পরে হামাস একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে পণবন্দীদের পরিবারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়- যদি ইসরাইল তার বোমাবর্ষণ চালিয়ে যায়, তবে তাদের প্রিয়জনদের লাশ ছিন্নভিন্ন অবস্থায় ফেরত পেতে হতে পারে।

মুখোশ পরা বন্দুকধারীরা সাদা ভ্যান থেকে কালো কফিন বের করছে- এমন দৃশ্যের সাথে ইংরেজি, আরবি ও হিব্রু ভাষায় লেখা সাবটাইটলে বলা হয়- ‘প্রস্তুত থাকুন। খুব শিগগিরই আপনাদের সন্তানদের ছিন্নভিন্ন লাশ ফিরে আসবে সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেলসহ।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার উত্তর গাজা সফর করেন। সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা শত্রুদের ওপর আঘাত হানছো, হামাস একের পর এক আঘাত খেতে থাকবে। আমরা পণবন্দীদের মুক্তি চাই এবং যুদ্ধের প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকব।’

হামাস সোমবার জানায়, তারা ইসরাইলের পক্ষ থেকে একটি নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে, যাতে বলা হয়েছে ১০ জীবিত পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে এবং এডান আলেকজান্ডারকে প্রথম দিনই মুক্তি দেয়া হবে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে।

প্রস্তাবটি মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধিদলের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

হামাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তাবের উত্তর দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ বলছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখন যুদ্ধ শুরুর পর ১৮ মাসের মধ্যে ‘সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ’।

এক হামাস নেতা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল তাদের নিরস্ত্র হওয়ার যে দাবি জানিয়েছে, তা একটি 'লাল রেখা' অতিক্রম করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় যেসব ইসরাইলিকে পণবন্দী করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এখনো ৫৮ জন বন্দি অবস্থায় রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সূত্র : বাসস