হামাসের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ৪০ জন ও গাজায় এখনো বন্দি থাকা বন্দীদের ২৫০ জন পরিবারের সদস্য ইসরাইলি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- যুদ্ধ বন্ধ করুন, আলোচনার টেবিলে ফিরুন।

শুক্রবার তারা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে এক আবেগঘন চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যেখানে অবশিষ্ট ৫৯ জন বন্দীর মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে জীবিত বন্দীদের মৃত্যু অনিবার্য।

চিঠির ভাষায় ফুটে উঠেছে দুঃখ, হতাশা ও ক্ষোভ- ‘এই চিঠিটি রক্ত ও অশ্রু দিয়ে লেখা। এটি আমাদের সেই প্রিয়জনদের স্মরণে, যারা বন্দিদশায় নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা চিৎকার করে বলছি, ‘যুদ্ধ থামান! আলোচনায় বসুন! এমন একটি চুক্তি করুন, যা সব বন্দীকে ফিরিয়ে আনবে, এমনকি যদি তার জন্য যুদ্ধ শেষ করতেও হয়, তাহলে সেটাই করুন। সামরিক অভিযান আমাদের প্রিয়জনদের আরো বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাদের জীবন রক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’

জানুয়ারির মাঝামাঝি ইসরাইল ও হামাস ৪২ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময়ের চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। চুক্তির প্রথম ধাপে হামাস ৩০ জন জীবিত বন্দী ও ৮ জন নিহত বন্দীর লাশ ফেরত দেয়। অন্যদিকে ইসরাইল প্রায় ২০০০ বন্দী মুক্তি দেয়।

এই চুক্তিতে একটি দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাবনা ছিল, যেখানে অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে আরো ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবে এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু ইসরাইল এই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ তারা হামাসকে গাজার শাসক হিসেবে রাখতে চায় না।

চিঠির শেষাংশে আরো জোরালোভাবে বলা হয়েছে, ‘আমরা সকলেই যুদ্ধের অবসান চাই। যারা বন্দিদশা থেকে ফিরে এসেছেন, তারা বিভীষিকার সাক্ষী; যারা এখনো গাজায় বন্দি, তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন; আর যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তারা জানেন- সময় থাকতেই যদি আমরা কিছু করতে পারতাম! আমাদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে, যাতে আর একটি জীবনও হারাতে না হয়। আমাদের প্রিয়জনেরা যেন ফিরে আসে, বেঁচে থাকে। যারা চলে গেছেন, তাদের অন্তত সম্মানের সাথে বিদায় জানানোর সুযোগ যেন আমরা পাই।’

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল