গাজা উপত্যকায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং বন্দী বিনিময় নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরেই প্রতিরোধের সুর ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এক বিবৃতিতে এই বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ থামানো ও বন্দীদের মুক্তির জন্য এখন ইসরাইলের ভেতর থেকেই ক্রমবর্ধমান আহ্বান উঠে আসছে। এটা এই বাস্তবতাই নির্দেশ করে যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য এবং বন্দীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য মূল দায়ভার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গাজার শিশুদের রক্ত ও দখলদার বাহিনীর হাতে আটক বন্দীদের দুর্দশা- সবই নেতানিয়াহুর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মোহ ও বিচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।’
সম্প্রতি এক হাজারেরও বেশি ইসরাইলি বিশেষ বাহিনীর রিজার্ভ সদস্য গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিমান বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া রিজার্ভ সদস্যদের সমর্থন দিয়ে এই আহ্বান জানান। এই যুদ্ধ মানবিকতা ও নিরাপত্তা উভয়েরই পরিপন্থী। তাদের এই অবস্থান ইসরাইলের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী একটি শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতির শেষাংশে জানানো হয়েছে, সমীকরণটি একেবারে পরিষ্কার। যুদ্ধ বন্ধ হলে বন্দীদের মুক্তি সম্ভব। পুরো বিশ্ব এই সমাধানকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে। কিন্তু নেতানিয়াহু সেটি অস্বীকার করে চলেছেন। তার এই জেদ ও বিলম্বের প্রতিটি দিন মানে হলো গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য নতুন নতুন মৃত্যুর খবর এবং বন্দীদের জন্য অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।’
এই বিবৃতি আরো একবার মনে করিয়ে দিলো যে গাজার যুদ্ধ এখন আর শুধু একতরফা সামরিক সঙ্ঘাত নয়। বরং এটি হয়ে উঠেছে ইসরাইলের রাজনৈতিক সঙ্কট, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ক্ষমতার লড়াই এবং আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের প্রতিচ্ছবি।
সূত্র : আল জাজিরা