বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন কোনো তারকাখ্যাতি বা প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশে নয়: বরং একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণে মনোযোগী হয়েছেন। সম্প্রতি যশোর সফরে গিয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

ববিতা জানান, চার-পাঁচ বছর ধরে একটি মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা লালন করে আসছেন। তার ভাষায়, এটি তার জীবনের অন্যতম সুন্দর স্বপ্ন। সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে নিয়ে যশোরের বিজয়নগরে দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি চূড়ান্ত করে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগিরই মসজিদের নকশা করা হবে, এরপর ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ শুরু করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

যশোর সফরে দাদাবাড়ি ও নানাবাড়ির শৈশবস্মৃতিও নতুন করে মনে পড়েছে ববিতার। তিনি জানান, শৈশবের সঙ্গী কুলসুমের মৃত্যুসংবাদ শুনে খুব কষ্ট পেয়েছেন। একইসাথে ছোটবেলায় মারা যাওয়া বোন জেলির কবর জিয়ারত করে আবেগাপ্লুত হন। দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষের আন্তরিক ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি গভীর তৃপ্তির কথাও জানান।

আগামী ৩০ জুলাই নিজের জন্মদিন উপলক্ষে কানাডায় একমাত্র ছেলে অনীকের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ববিতার। তবে জীবনের এই সময়ে তার সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটাই—আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করে যাওয়া।