বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের কর আদায়ের বিষয়ে মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ ও সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে। সদস্য হিসেবে থাকছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বিদেশে পাচার করা সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে কমিটি।

এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কিভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।

পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের গতিপথ শনাক্ত এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের ব্যবস্থাপনার সাথে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে।

ফলে বিদেশে পাচার করা সম্পদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রেও একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে।

সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগকে আরো কার্যকর করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে আদালতের আদেশে বিদেশে কোনো অর্থ বা সম্পদ অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।