ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে বন্দর এলাকায় আবারো ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
আজ রোববার সকাল থেকে বেনাপোল, সোনামসজিদ ও হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে এসব বন্দরে ফিরেছে চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য, শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যস্ততা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা জানান, আজ রোববার সকাল থেকে পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীসহ কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দরের শ্রমিকেরা। লম্বা ছুটির কারণে বন্দরে জমেছিল পণ্যজট। এখন পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় তা কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, ঈদের লম্বা ছুটি থাকলেও দু’দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত অন্য সময়ের মতোই স্বাভাবিক ছিল।
তিনি জানান, তবে আগের বছরগুলোতে ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার যাত্রী ভারতে গেলেও এ বছর যাত্রীদের তেমন কোনো চাপ নেই।
বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর মামুন কবির তরফদার জানান, আজ সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যান ও পণ্যজট নিরসনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ছুটি শেষে কর্মব্যস্ততার প্রভাব পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও। সকাল থেকে সেখানেও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব রুহুল আমিন।
তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দরে গত ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানিসহ সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার সকাল থেকে যথারীতি আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে সার্ভারে সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত ভারতীয় পণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পৌঁছায়নি।
রুহুল আমিন আশা প্রকাশ করেন, সার্ভার সমস্যার সমাধান হলেই ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে আসতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রুহুল আমিন।
অন্যদিকে, হিলি বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো: নাজমুল হোসেন জানান, আজ সকাল থেকে বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আগের নিয়মে চালু হয়েছে। এতে বন্দরের শ্রমিক-মজুরদের মাঝে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব জানান, পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারিভাবে ছুটি থাকলেও পাসপোর্টধারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সচল ছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ। সূত্র : ইউএনবি