রাজধানীর খিলগাঁও থানার রেলগেট এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে পানি ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান খান দিপুকে তুলে নিয়ে মারধর করে রেললাইনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি জানান, গত ২৯ জুলাই খিলগাঁও রেলগেট ছাপড়া মসজিদ এলাকার বাসার সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি দিপুকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে তাকে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরো জানান, মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ বিষয়টি থানাকে জানায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মারধরের ঘটনার বিষয়ে ওসি বলেন, গত ঈদে অভিযুক্তদের সাথে দিপুর বিরোধ হয়েছিল। যদিও স্বজনদের দাবি, সেই বিরোধের মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। এরপরও একই বিরোধের জেরে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা সামসুউদ্দিন জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিক দিপু বাসা থেকে বের হন। যাওয়ার সময় ছেলে আমাকে বলে, ‘আব্বা ২০ টাকা দাও পান কয়টা আনবো’ ওর পকেটে হাজার হাজার টাকা থাকলেও ও বাইরে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে ২০-৫০ টাকা তার নিতেই হতো। আমার ছেলে যে চলে গেল আর বাসায় ফিরে এলো না।’
তিনি অভিযোগ করেন, খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত দিপুকে তুলে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে শয্যা না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।