প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘এই বাজেটে শেখ হাসিনার সাথে পার্থক্য কি বলেন? শেখ হাসিনা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল, আপনারাও দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) মানুষ সৎ হিসেবে জানে। এই সরকারের হাত দিয়ে কেন খারাপ কাজ হবে, এটা মানুষ জানতে চায়?’
মঙ্গলবার সকালে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ সমালোচনা করেন।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ উপলক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘উনার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) হাত দিয়ে যদি ওই সমস্ত লুটেরা-ব্যাংক ডাকাতরা কালো টাকা সাদা করতে পারে, তাহলে স্বাস্থ্য সেক্টর, শিক্ষা সেক্টর এবং অন্য সেক্টরগুলো বঞ্চিত হবে। যদি ওইসব খাতে বরাদ্দ না থাকে, যদি সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কম থাকে, তাহলে মানুষের কল্যাণের কি হবে?’
রিজভী বলেন, ‘সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট। এই বাজেটের ২৩ শতাংশ উপরে যাবে শুধু প্রশাসনের বেতনের জন্যে। তাহলে গরিব মানুষের জন্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আপনি কি রেখেছেন?’
তিনি বলেন, ‘সব টাকা, লাভের গুড় তো পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলছে, তাহলে জনগণের জন্য কি করলেন? আপনি স্বাস্থ্য খাতে, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কম দিলেন। আমাদের বরাদ্দ দরকার শিক্ষা খাত ও স্বাস্থ্য খাতে। মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবা তো রাষ্ট্র দেখবে।’
রিজভী আরো বলেন, ‘ড. ইউনূস সাহেব পৃথিবীব্যাপী অনেক কথা বলেছেন। আজকে তার হাতে ক্ষমতা। তিনি গরিব মানুষকে ভালো রাখবেন। তিনি এক সময় বলেছেন, ‘আমি ক্ষুধাকে, দারিদ্রকে জাদুঘরে পাঠাব, এটা ড. ইউনূস সাহেবের কথা। এখন দেখছি, উনার হাত দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে’।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ড. ইউনূসকে সমর্থন দিয়েছে। আপনি দেশ ভালো চালান। কিন্তু তার হাতে যে বাজেট সে বাজেট তো গরিবকে আরো গরিব করা। মুদ্রাস্ফীতি কমানোর যে পদক্ষেপ, তা আমরা বাজেটে দেখতে পাচ্ছি না। বরং মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরো বাড়বে। এটা আমার কথা নয়, অর্থনীতিবিদরাও এটা বলছেন।’
এ সময় অনুষ্ঠানে তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।