ধর্ষণ নামক ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং শিশু আছিয়ার পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে পাঁচ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ মানববন্ধন করেছেন।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধন করেন মহিলা জামায়াত।
এ সময় সহস্রাধিক নারী অংশগ্রহণকারী মানববন্ধনে ‘বেঁচে থাকা ও নিরাপত্তার অধিকার দাও’, ‘ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চাই’, ‘ধর্ষণ মামলা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করো’, ‘ধর্ষণ মামলায় জামিন বিধান বাতিল করো’ এবং ‘ধর্ষণ মামলায় এক বিধান, এক শাস্তি, ধর্ষককে ফাঁসি দাও’- এই পাঁচ দাবিতে স্লোগান তুলে সরকারের কাছে তাদের দাবি জানায়।
মানববন্ধনে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘আছিয়া হত্যার মামলার রায় এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে এবং অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সকল ধর্ষককে ফাঁসি দিতে হবে।’ তিনি ধর্মহীনতার চর্চা এবং নৈতিকতাহীন শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে জনগণকে উজ্জীবিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং ধর্ষণ মামলায় কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) বিধান করার দাবি জানান তিনি। ধর্ষকদের নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার প্রস্তাবও দেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী এবং নাজমুন নাহার নীলু ও দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। তারা শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীদের বেরিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। তারা ধর্ষণ মামলা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করে ধর্ষকদের ফাঁসি দেয়ার দাবি জানান এবং সরকারের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, মানববন্ধনে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে নিম্নলিখিত পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয় :-
১. আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
২. সকল ধর্ষকের ফাঁসি চাই।
৩. বিচারের দীর্ঘ সুত্রিতা বিচারহীনতার নামান্তর। এক মাসের মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের বিচার এবং রায় কার্যকর করতে হবে।
৪.নৈতিকতাহীন শিক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ অনৈতিকতা। এটা দূর করার জন্য ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং ইসলামী সামাজিক মূল্যবোধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৫. এদেশের শতকরা ৮৭ ভাগ মুসলমান। এখানে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন হলে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধ কমতে বাধ্য। তাই আমরা কোরআনের আইন বাস্তবায়ন চাই। বিজ্ঞপ্তি