খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রদত্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে কমিশন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। বৈঠকে খেলাফত মজলিস নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তার ১০টির মতো প্রস্তাবনা সরাসরি কুরআনের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।’
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
খেলাফত মজলিসে নেতারা বলেন, ‘সেখানে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন সংস্কার করে সকল ধর্মের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও ভরণপোষণে নারী-পুরুষের কথিত সমান অধিকার থাকবে। স্ত্রী-স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে পারবে। যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করারও প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।’
তারা বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। দেশের স্বার্থে, ইসলামের স্বার্থে এবং নারীদের স্বার্থে এই কমিশন বাতিল করতে হবে। কারণ দেশের মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই কমিশন দাঁড়িয়েছে। তারা পরিবার ও সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করছে। পাশ্চাত্য জীবন দর্শনে প্রভাবিত কমিশনের এসব সদস্যরা বাংলাদেশের নারীদের সর্বসাধারণের আদৌ প্রতিনিধিত্ব করেন না। এরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাদের প্রস্তাবনাসমূহ মেনে নিলে তা হবে ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ের অস্তিত্বের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাই।’
তারা আরো বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে ওয়াক্ফ আইন সংস্কারের মাধ্যমে মুসলিমদের সম্পত্তি উচ্ছেদ ও বাজেয়াপ্ত করছে বিজেপি সরকার। কাশ্মিরের সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে সেখানকার মুসলমানদের ওপর ফিলিস্তিনের গাজার মতো গণহত্যা চালানোর উস্কানি দিচ্ছে বিজেপি নেতারা। আমরা ভারতীয় মুসলমানদের ওপর উগ্রবাদী হিন্দুত্ববাদের সকল আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই। ভারত সরকারকে তার নিজ দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।’
কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে মে মাসব্যাপী দেশজুড়ে দাওয়াত ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
শনিবার বিকেলে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাহী বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এ বি এম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, ডা. এ এ তাওসিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা সামছুজ্জামান চৌধুরী, মাওলানা শেখ সালাহউদ্দিন, সমাজকল্যাণ ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আবু সালমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো: জহিরুল ইসলাম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসেন মালিক, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, উলামাবিষয়ক সম্পাদক মুফতি আলী হাসান উসামা, যুববিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, ডা. আসাদুল্লাহ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, বোরহান উদ্দিন সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান, জিল্লুর রহমান, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা আফতাব উদ্দিন, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, নূর হোসেন, মাওলানা সামসুদ্দিন, মাওলানা আহমদ বেলাল, সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ জিন্নত আলী, মাওলানা নেহাল আহমদ, মাওলানা নরুল হক, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, মাওলানা নুরুল আমিন, গোলাম মোস্তফা, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল হোসেন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।