আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের যৌক্তিক পরিমাণ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন। একইসাথে স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এই দাবিতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন শেষে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়াতে সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাথীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের যৌক্তিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। এতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর জামানত ১০ হাজার টাকা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের জামানত ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জামানত ৩ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের জামানত ১ হাজার টাকা নির্ধারণের জোর দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সামর্থ্য যেন কোনোভাবেই সাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে বিত্তবানদের তুলনায় ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আরো সংকুচিত হবে। তাই টাকার জোর নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে যেন সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রার্থী হওয়ার পথ সুগম থাকে, সেই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সহজ করা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন আয়োজনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, কমিশন যেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে যার ফলে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত পুনর্বাসন, খাস জমির অধিকার প্রদান এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের পুনর্বাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।