বাংলাদেশ মৃত্তিকা বিজ্ঞান সমিতি (এসএসএসবি) সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে পরিবেশ, কৃষি ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। একইসাথে দুই ও চার ফসলি জমিতে কোনোভাবেই ইটভাটা করার অনুমতি দেয়া যাবে না।
বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটের মৃত্তিকা ভবনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
এসএসএসবির সভাপতি ড. মনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এসিআই এগ্রিবিজনেস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট ড. এফ এইচ আনসারি। এতে বক্তব্য রাখেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট মহাপরিচালক ও সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বেগম সামিয়া সুলতানা, পরিবেশ অধিদফতরের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল ড. মো: সোহরাব আলী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জহির উদ্দীন ও এসআরডিআইর সাবেক পরিচালক খন্দকার মাঈনউদ্দীন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এসআরডিআইয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নূরুল হুদা আল মামুন প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি ড. এফ এইচ আনসারি বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট মিলে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়নে কাজ করা যাবে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পেলে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আমাদের মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হতে বাধ্য, কেননা মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, চার লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়, সেই পাতা থেকে সার বানানো সম্ভব। ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন পাতা থেকে সার তৈরি করা যাবে। ৫০ হাজার টন বায়োফার্টিলাইজার তৈরি করছি।
তিনি আরো বলেন, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার জমিকে ক্ষমির মুখে ফেলেছে।
অধ্যাপক জহির উদ্দীন বলেন, শুধু বিল্ডিং বা ল্যাব তৈরি করলেই মাটি উন্নত হবে না, বরং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আগে যে জমি কৃষি ফসল উৎপাদন হতো তা বর্তমানে বিল্ডিং বা প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। তার পরিমাণ কত সেটি বের করা দরকার। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্র উপকূল, চর ও পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদন বাড়াতে হবে। কেননা স্বাস্থ্যবান মাটি না হলে উৎপাদন বাড়বে না।
ড. মো: সোহরাব আলী বলেন, কৃষি, ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে জমির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করা দরকার।
বেগম সামিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের ৬৩ জেলায় মৃত্তিকার অফিস নেই। সারা দেশে ছয়টি গবেষণার রয়েছে। এগুলো একতলা বিশিষ্ট, এসব অফিস বহুতল করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া আমরা আগে প্রকল্পভিত্তিক কাজ করতাম, তা রাজস্বখাতে উন্নীত করা হচ্ছে।
ড. মনোয়ার হোসেন খান বলেন, মাটির স্বাস্থ্য সুস্থ থাকলে পরিবেশ-প্রতিবেশ ভালো থাকে। মাটিতে থাকা ক্ষমিকর উপাদান ধ্বংস করে খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের অনেক ডেটা থাকলেও সেগুলো সমন্বিতভাবে নেই। এগুলোকে নিয়ে জাতীয় ডেটাবেইজড তৈরি করতে হবে।
তিনি জমি ব্যবহারে জাতীয় পরিকল্পনা নেয়া দরকার বলেও দাবি করেন।
ড. নূরুল হুদা আল মামুন বলেন, প্রতিনিয়ত সেমিনারের আয়োজন করা হবে। আজ প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী দিনে সমিতি নতুন নতুন উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, এ জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।
এছাড়াও সেমিনারে মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি জানানো হয়।
সাবেক বিজ্ঞানীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাছাড়া এক থেকে তিন মাসের জন্য নতুন ও পুরাতন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের দাবিও তোলা হয়।