চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পাশে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বিগত সরকারের ‘প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির’ কারণে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা ঐতিহাসিক এ স্থাপনাকে আবারো তার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ সংস্কারের জন্য খালি রাখা হয়েছে। আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তার ভূমিকা দেশকে আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। সেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাদুঘরের অনেক কক্ষ বর্তমানে খালি রয়েছে, কারণ সেগুলো সংস্কারের আওতায় রয়েছে। সংস্কার শেষে সেখানে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন ও বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধকালীন অবদান, বীর উত্তম খেতাব অর্জন, সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলো তার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। তার স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে।

চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসংলগ্ন ‘জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে এক সময় কমপ্লেক্সটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে আবারো ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এসব স্থাপনা সংরক্ষণ করা জরুরি।

তিনি জানান, ভূমিকম্পের কারণে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে এটি আবারো দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরে একই বছর স্থানটিকে তার স্মৃতির উদ্দেশে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। সূত্র : বাসস