অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না এবং সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
জাতীয় সংসদে এনসিপি দলীয় সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বুধবার প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার গণমাধ্যমকে কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে না এবং করছেও না। সংবাদমাধ্যম স্বাধীন। তারা কোন সংবাদ আপলোড করবেন, কোন সংবাদ ডাউনলোড করবেন, কোন সংবাদ ছাপবেন বা ছাপবেন না- এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়।
তিনি বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম যদি মনে করে সংবাদটি সঠিক নয় অথবা সংবাদটি প্রকাশ করা উচিত হয়নি, তাহলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি সরিয়ে নিতে পারে। এ বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না।
ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বলেই সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না।
এর আগে, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক দর্শন বা আদর্শ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন বলে সরকার আশা করে।
সুলতানা জেসমিন বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সদস্যদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সংবাদমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক আদর্শকে পেশাগত ক্ষেত্রে প্রয়োগের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ছে।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য, অসত্য তথ্য ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর তা সরিয়ে নেয়া এবং সংবাদমাধ্যম সাইবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি এসব ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের নীতিগত অবস্থান। কোনো সংবাদমাধ্যম কী সংবাদ প্রকাশ করবে বা প্রকাশের পর তা রাখবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব। সরকার এ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না।