সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক, জুলাই যোদ্ধা ও মহান বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুমা নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনবিরোধী মানববন্ধন করে সচেতন বিপ্লবী শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
তারা আরো বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ভারতীয় অগ্রাসন আমরা কখনই মেনে নেব না। কত হাদি শহীদ করবে? আমরা লক্ষ হাদি তৈরি করব।
এ সময় ডিভিএম চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মিয়া বলেন, ‘আধিপত্যবাদ ও ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী সংগ্রামের অগ্রসেনানী, জুলাইয়ের অন্যতম সহযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ছিলো জুলাইয়ের বিপ্লবীদের নিরাপত্তা দেয়া। যেখানে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এমন একটি পরিকল্পিত নীলনকশা সম্পর্কে কিছুই যদি না জানে তাহলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে তাদের রাখার কোনো দরকার নেই।
তিনি বলেন, এখনো দেশে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে ফ্যাসিবাদের দোসরার বসে আছে। যার কারণে এমন পরিকল্পিত খুন ও আসামিদের পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী-সন্ত্রাসীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে বদ্ধ পরিকর। দ্রুত এদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সিকৃবিতে জুলাইয়ে ছাত্রদের ওপর হামলাকারী স্বশস্ত্র ছাত্রলীগ এবং তাদের নির্দেশদাতা তৎকালীন ভিসি, প্রক্টর, ছাত্রপরামর্শের এখনো দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দৃশ্যমান বিচার করতে হবে। আজ থেকে সকল শিক্ষার্থীদের এ মর্মে শপথ গ্রহণ করতে হবে যে, জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যায় ইনসাফের পক্ষে মুখে, কলমে, মিডিয়ায় লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।