ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা নিজ বাড়ি থেকে সৌদি আরব প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালুর ছেলে রিফাত মিয়াকে (১৯) অপহরণ এবং তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ভিকটিমকে উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক অপহরণ হওয়া যুবক রিফাতের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে সৌদি আরব প্রবাসী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালুর ছেলে রিফাত মিয়াকে অপহরণ করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। নিজেদের ‘ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা রিফাতকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরদিন পরিবারের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

সোমবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি হাইয়েস গাড়িতে করে আসা ১০-১২ জনের একটি দল প্রথমে প্রধান ফটকের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। তালা না ভাঙায় একজন দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেট খুলে দিলে বাকিরাও প্রবেশ করে বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার আঁচ পেয়ে শহিদুল ইসলাম দ্রুত নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করার অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওসি মাইকিং করতে নিষেধ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তারা দুর্বৃত্তদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন। এইদিনই রাত ৩টার দিকে শহিদুল ইসলামের ফোনে অপহরণকারীরা কল করে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরদিন মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে রিফাতের মায়ের ফোনে আবার কল দিয়ে মুক্তিপণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করা হয়। অপহরণকারীরা নিজেদের ‘ডিজিএফআই’র সদস্য পরিচয় দেয়।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পুলিশকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছি, মাইকিং করার কথা বলেছি—কিন্তু ওসি নিষেধ করেন। পুলিশ সামনে থেকেও কোনো বাধা দেয়নি। এখন আমার ছেলের জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।’

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মো: কামাল মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, কামাল খন্দকারসহ অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক সাংবাদিকদের জানান, অপহরণ হওয়া যুবককে উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।