রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চার সন্তানের জননী এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫)।

ফাহমিদা তাহসিন কেয়া রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির মেট্রো পিলার ৩২২- এর উল্টা পাশে ৫৮৩ নম্বর অনামিকা কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সিফাত আলী (৩০) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মধ্যরাতে শাশুড়িকে ফোনে মৃত্যুর খবর জানিয়ে পালিয়ে যায়।

আজ বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিরপুর মডেল থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র ঘটনাস্থলে এসেছি। সরেজমিন তদন্ত চলছে। লাশ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে শুনেছি। মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্বামী পলাতক।’

নিহতের ফুফু সৈয়দা ফাতেমা জাহান কলি জানান, রাত ২টার দিকে সিফাত তার শাশুড়ি নাজমা বেগমকে কল করে বলেন, ‘কেয়া খুবই অসুস্থ, আপনারা বাসায় আসেন।’

কী হয়েছে জানতে চাইলে একপর্যায়ে সিফাত স্বীকার করেন, ‘আপনাদের মেয়ে আর নেই।’ এরপর নাজমা বেগম তার স্বামীসহ দ্রুত বাসায় পৌঁছান। তারা দেখেন, সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই সিফাত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরে নাজমা বেগম ও তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, সিফাত বাসায় তালা দিয়ে উধাও।

নিহত কেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিফাত খুবই বদমেজাজি। সন্তানদের সামনেই খারাপ আচরণ ও মারধর করতো। সে নিজে কিছু করতো না। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। এর জন্যই খুন হয়েছে আমার মেয়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেয়ার চার সন্তান- এক মেয়ে, তিন ছেলে। বড় মেয়েটি ভিকারুননিসা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। কয়েকদিন আগে কেয়া কল করে বলছিল, সে আর পারছে না, সংসার করবে না, একবারে ফিরে আসতে চাইছিল। আমরাই বুঝিয়ে আটকাইছি। ভুল করেছি। আজ তার খেসারত মেয়েটা দিয়ে গেলো!’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট নাতি-নাতনীদের কি হবে? আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। গলায় দাগ দেখেছি। সুস্থ মানুষ তো হঠাৎ করে মারা যাবে এমনটা হতে পারে না। সিফাত কেন পালাবে?’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিফাতের বাবা দীর্ঘদিন ধরে হংকংয়ে থাকেন এবং তার মা অনেক আগেই মারা গেছেন।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাজ্জাত রোমান বলেন, ‘গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। লাশ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে আছে। সেখানে সুরতহাল করা হবে।’

তিনি আরো জানান, ‘এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা- তা এখনো স্পষ্ট নয়। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’