‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শরীয়তপুরে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষরোপণ অভিযান, বৃক্ষমেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে এবং বাংলাদেশও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাবের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই।
হুইপ অপু বলেন, বনভূমি রক্ষা এবং নতুন করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অক্সিজেন সঙ্কট, মাটির ক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসসহ নানা ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। তাই শুধু গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালু, পুলিশ সুপার রওনক জাহান, সিভিল সার্জন ডা. মো: রেহান উদ্দিন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার আটটি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।