ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে তা দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে।

মঙ্গলবার দুপুরে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডস্থ মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

মেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। এসব স্টলে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা।

অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন চৌধুরী, নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুইটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে-তার একটি হচ্ছে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং অন্যটি হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে এই কার্যক্রম চলছে।

বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানান।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানায়, শহীদ জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চারার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য গাছের পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শের সুবিধাও রাখা হয়েছে।