গাজীপুর জেলায় এতদিন সংসদীয় আসন ছিল মোট পাঁচটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার একটি আসন কমিয়ে গাজীপুরে নতুন একটি আসন (নং-১৯৮) সৃষ্টি করেছে নির্বাচন কমিশন। ‘শিল্প-শ্রমিক অধ্যুষিত’ গাজীপুরের জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভৌগলিক আয়তন বিবেচনায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে এই এলাকা গাজীপুর-২ (টঙ্গী-সদর) আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর), গাজীপুর-২ (সদর) ও গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাথে সমন্বয় করে ভোটার সংখ্যার আনুপাতিক হারে গাজীপুর-৬ আসনের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেটে গাজীপুর মহানগরীর ৩২-৩৯ নম্বর ওয়ার্ড (গাছা থানা ও পূবাইল থানার আংশিক) এবং ৪৩-৫৭ নম্বর ওয়ার্ড (টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানা) নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন গাজীপুর-৬ আসন। এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ২৫৪ জন।
নতুন আসনের প্রথম এমপি কে হবেন- এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। ভোটারদের অভিমত, টঙ্গীর সরকার পরিবারের প্রভাব এ আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নাম এখনো প্রকাশ না হলেও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ইতোমধ্যেই প্রচারণায় নেমেছেন। তাদের মধ্যে বেশিভাগই তরুণ, যারা আগে কোনো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি।
তবে প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক এমপি ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারকে নতুন আসনের উদ্বোধনী এমপি হিসেবে দেখতে চান তার সমর্থকরা। অন্যদিকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকার ইতোমধ্যেই দলের গ্রীন সিগনাল পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার অনুসারীরা। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালীতে তাকে বিজয় সূচক ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন করতেও দেখা গেছে।
সরকার পরিবারের আরো দুই সদস্য- মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাভেদ আহমেদ সুমন- মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনের আগে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া গাজীপুর জেলা ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আরিফ হোসেন হাওলাদার, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহউদ্দিনও নতুন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণায় রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী এখনো এ আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলটি কৌশলী অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই জামায়াত চমক দেখাতে পারে- এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।