বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ মো: জিল্লুর রহমান প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কনস্টেবলদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমি থেকে লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মাঠ পর্যায়ে নিষ্ঠা ও সততার সাথে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিনিয়ত জনসেবা, জ্ঞানচর্চা ও বাস্তব জীবন হতে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। আপনাদের আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব, যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার মতো মহান দায়িত্ব পালন করতে হবে। জ্ঞান অর্জন, প্রকৃত শিক্ষা, নীতি এবং মৌলিক মূল্যবোধ শুধুমাত্র নিজেদের ভেতরে রাখলে চলবে না এটাকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন করে বাংলাদেশের পুলিশকে বিশ্বমানের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালু করেছে।’

আজ রোববার সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ১৬৮তম টিআরসি ব্যাচের ৩৫৭ জনের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। বর্তমান সরকার পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন করে বাংলাদেশের পুলিশকে বিশ্বমানের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালু করেছে।’

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হতে শুরু হওয়া মৌলিক প্রশিক্ষণের শেষ দিন রোববার। এখন থেকে আপনারা প্রশিক্ষিত একঝাঁক মেধাবী ও চৌকস পুলিশ সদস্য। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ও নাগরিকের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে যাচ্ছেন। বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব বহুমাত্রায় বেড়ে গেছে। জটিল হয়েছে কর্মপরিবেশ তার সাথে বেড়েছে দায়বদ্ধতা। এর মধ্যেই জনগণের নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা টেকসই করা বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে পুলিশের কর্মপরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসাথে পরিবর্তিত হচ্ছে অপরাধ কৌশল। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধান অতিথি বলেন, সময়োপযোগী আধুনিক পুলিশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দীর্ঘদিন পর পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগে আমূল এবং আধুনিকভাবে পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। অতি স্বচ্ছতার সাথে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে পুলিশের এক নবযাত্রা সূচিত হয়েছে, রচিত হয়েছে এক নতুন ইতিহাস।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, টিআরসির অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি অভিবাদন গ্রহণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী টিআরসিদের হাতে পুরস্কার এবং সনদ তুলে দেন।