বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের আওতাধীন অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েল্থ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বাউবি তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: খালেকুজ্জামান খান জানান, বাউবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এর আগে গত ১ আগস্ট এসিইউর কাউন্সিল সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ট্রাস্টি বোর্ডের ২১ জন সদস্যের মধ্যে তিনি বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

এসিইউ বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কমনওয়েল্থভুক্ত ৪০০-এরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এর সদস্য, যারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষা সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।

একইসাথে এসিইউ কাউন্সিল ও ট্রাস্টি বোর্ড উভয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা বাউবি তথা বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সম্মান ও সাফল্য। এ অর্জনের জন্য ইউকে চ্যারিটি কমিশনের প্রধান নির্বাহী মি: ডেভিড হোল্ডসওয়ার্থ অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মনবুশো বৃত্তিতে তোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য অ্যাকাডেমিক জীবনে তিনি জার্মানির ‘অ্যালেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ’ যুক্তরাজ্যের ‘কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমিক স্টাফ ফেলোশিপ’ এবং নেদারল্যান্ডসের ‘ইরাসমাস মুন্ডুস ফেলোশিপ’র আওতায় পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

একজন খ্যাতনামা গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি ৪০টিরও বেশি প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদ এবং সিন্ডিকেটের সভাপতি/সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষার প্রসারে অবদান রেখে চলেছেন। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে বাউবি পরিবার গর্বিত ও আনন্দিত। তার মেধা, একাডেমিক উৎকর্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও সততা এসিইউ ট্রাস্টের মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং কমনওয়েল্থভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।